ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শিশুর জ্বর কমানোর ঘরোয়া দশটি উপায়

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক

নভেম্বর ৬, ২০২৫, ১১:৪৮ পিএম

শিশুর জ্বর কমানোর ঘরোয়া দশটি উপায়

শিশুর জ্বর অভিভাবকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। কোমল শিশুর শরীর যখন হঠাৎ গরম হয়ে যায়, তখন মায়েদের চোখে উদ্বেগ এবং বাবার মুখে চিন্তার রেখা দেখা দেয়। 

জ্বর আসলে রোগ নয়, এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনো সংক্রমণ হলে শরীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে। 

তবে শিশুর জ্বর কখনও কখনও বিপজ্জনকও হতে পারে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া উপায়ে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।

শিশুদের জ্বর সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণ, ঠান্ডা-কাশি, টিকা নেওয়া, দাঁত ওঠা, বা অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতার কারণে হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা যদি ১০০.৪°F (৩৮°C)-এর বেশি হয়, সেটিই জ্বর বলে ধরা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর জ্বর কমানোর ঘরোয়া কার্যকর দশটি উপায় হলো: প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানিতে শিশুর হাত, পা, গলা ও কপাল ধীরে ধীরে মুছে দিন। এটি শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমায়। ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না। 

দ্বিতীয়ত, শিশুকে মোটা কাপড় বা কম্বল দিয়ে না জড়িয়ে হালকা, বাতাস চলাচলযোগ্য পোশাক দিন। এতে তাপ শরীরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এবং জ্বর কমে। 

তৃতীয়ত, শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিন। শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দ্রুত দেখা দেয়। পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা পাতলা স্যুপ শিশুর জন্য সহায়ক। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধই সর্বোত্তম তরল খাবার।

চতুর্থত, শিশুর ঘর ঠান্ডা ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলযোগ্য রাখুন। খুব গরম বা বন্ধ ঘরে থাকলে জ্বর বেশি বাড়তে পারে। 

পঞ্চমত, বেসন ও সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে শিশুর পায়ের পাতা ও হাতের তালুতে হালকা করে লাগিয়ে দিন। এটি শরীরের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে জ্বর কমাতে সাহায্য করে। 

ষষ্ঠত, তিন থেকে চারটি তুলসি পাতা সেদ্ধ করে সামান্য মধু মিশিয়ে এক চা-চামচ খাওয়ানো যেতে পারে (শিশুর বয়স এক বছরের বেশি হলে)। এটি ভাইরাল জ্বরে কার্যকর প্রাকৃতিক জ্বরনাশক।

সপ্তমত, জ্বরে ক্ষুধা কমে গেলে শিশুকে জোর করে না খাইয়ে হালকা পায়েস, খিচুড়ি বা ভাতের মাড় দিন। এতে শক্তি বজায় থাকে এবং শরীর দ্রুত সেরে ওঠে। 

অষ্টমত, প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর শিশুর তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে মাপুন। যদি জ্বর দ্রুত বেড়ে যায়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

নবমত, শিশু অতিরিক্ত মোড়ানো না রাখুন। কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখলে তাপ শরীরের ভেতরে আটকে যায় এবং জ্বর আরও বাড়তে পারে। 

দশমত, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ দিন। সাধারণত শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ (যেমন: ক্যালপল, ফিভারেক্স) ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ডোজ শিশুর ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি, যদি জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, শরীরের তাপমাত্রা ১০৩°F (৩৯.৫°C)-এর ওপরে উঠেছে, শিশুর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ বা বমি শুরু হয়েছে, খিঁচুনি বা অজ্ঞানভাব দেখা দেয়, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যায়।

করণীয় সারসংক্ষেপ: কুসুম গরম পানিতে গা মুছানো শরীর ঠান্ডা রাখে; পর্যাপ্ত তরল খাবার পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করে; হালকা পোশাক ঘাম ও তাপ নির্গমনে সহায়ক; নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা শিশুর অবস্থার পর্যবেক্ষণ সহজ করে; এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয়।

শিশুর জ্বরের সময় ঘরোয়া যত্নই প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। সঠিক যত্ন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাদ্য ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ শিশুর শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে পরিস্থিতি জটিল মনে হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অভিভাবকের সচেতনতা ও ভালোবাসাই শিশুর দ্রুত আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।

ইএইচ

Link copied!