আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
মহারাষ্ট্রের বারামতিতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ রাজনীতিক অজিত পাওয়ার। বুধবার সকালে মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে অবতরণের আগমুহূর্তে বিধ্বস্ত হয় তাকে বহনকারী চার্টার বিমানটি। এই ঘটনায় বিমানে থাকা অজিত পাওয়ারসহ পাঁচ আরোহীর প্রত্যেকেই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ)।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ এবং রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমানটি আকাশে ছিল মোট ৩৫ মিনিট। বিস্তারিত সময়রেখা অনুযায়ী:
উড্ডয়ন: সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে।
আকাশে অবস্থান: দীর্ঘ ৩৫ মিনিট ওড়ার পর বারামতি বিমানবন্দরের আকাশে পৌঁছায় সেটি।
দুর্ঘটনার মুহূর্ত: সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি হঠাৎ করে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অবতরণের প্রস্তুতি: ডেটা বিশ্লেষণ বলছে, বারামতি বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার আগে রানওয়ের সাথে সমান্তরাল হওয়ার জন্য বিমানটি একটি চক্কর (Circle) দিয়েছিল। ঠিক সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি ভূমিতে আছড়ে পড়ে।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ (Learjet 45) মডেলের হালকা বিমান। এর নিবন্ধন নম্বর ছিল ভিটি–এসএসকে। বেসরকারি চার্টার কোম্পানি 'ভিএসআর এভিয়েশন' এই ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানে যারা ছিলেন-
অজিত পাওয়ার: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (PSO): উপমুখ্যমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
অ্যাটেনডেন্ট: বিমানের পরিষেবার দায়িত্বে নিয়োজিত।
দুজন অভিজ্ঞ পাইলট: যারা ককপিটে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন।
দুর্ভাগ্যবশত, বিমানে থাকা এই পাঁচজন আরোহীর কেউ আর বেঁচে নেই। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ধ্বংসাবশেষ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিমানের মতো অত্যাধুনিক আকাশযান কেন অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে নিখোঁজ ও বিধ্বস্ত হলো, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্তের দায়িত্ব নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
যান্ত্রিক ত্রুটি: রানওয়ের কাছে চক্কর দেওয়ার সময় বিমানের ইঞ্জিনে কোনো গোলযোগ হয়েছিল কি না।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি: বারামতির স্থানীয় আকাশ এবং বাতাসের গতিবেগ অবতরণের অনুকূলে ছিল কি না।
অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বারামতির রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাওয়ার পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় শূন্যতা তৈরি করল।
অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ কেবল একটি পরিবারের সদস্য বিয়োগ নয়, বরং মারাঠা রাজনীতির একটি প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান। যে বারামতিকে তিনি তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন, সেই বারামতির মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হলো তাকে। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ অজানাই রয়ে যাচ্ছে।
এএন