ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিউ ইয়র্কের আবাসন সংকটে আশার আলো, ট্রাম্পের দরবারে মেয়র মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

নিউ ইয়র্কের আবাসন সংকটে আশার আলো, ট্রাম্পের দরবারে মেয়র মামদানি

আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্থবিরতা কাটাতে এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম উগান্ডান-আমেরিকান মেয়র জোহরান মামদানি। বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে সিটিতে ১২,০০০ সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট (Affordable Housing) এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে মেয়রের।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি ২১ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল গ্রান্ট বা অনুদান অবমুক্ত করার জোর দাবি জানান।

নিউ ইয়র্ক সিটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া আকাশচুম্বী হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ফলে সিটির নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সাশ্রয়ী আবাসনকে তার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য ছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে ছিল।

মেয়র মামদানি প্রেসিডেন্টের কাছে যে প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো নিউ ইয়র্কবাসীর মৌলিক অধিকার। এই অর্থায়নের মাধ্যমে ১২,০০০টি নতুন ঘর তৈরি করা হবে যা সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শুধু ঘর নয়, বরং নতুন আবাসন প্রকল্পের আশেপাশে যাতায়াত ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সিস্টেম এবং টেকসই বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সিটিতে হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জোহরান মামদানি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর। মামদানি যেখানে একজন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত, সেখানে ট্রাম্পের রক্ষণশীল নীতি প্রায়শই নিউ ইয়র্ক সিটির লিবারেল কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকটি ছিল অনেকটা কৌশলগত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামদানি প্রমাণ করেছেন যে সিটির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি যেকোনো বড় শক্তির সাথে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই ফান্ড ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেলে তা হবে মামদানির প্রশাসনের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

জোহরান মামদানির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া ফেলেছে। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া একজন অভিবাসী সন্তান হিসেবে আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়র হওয়া এবং সরাসরি প্রেসিডেন্টের সাথে দরকষাকষি করা—তার নেতৃত্বের দৃঢ়তাকেই প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই বৈঠককে ‘নিউ ইয়র্কের স্বার্থে সাহসিকতার পরিচয়‘হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

২১ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল অংকের অর্থ ছাড় করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে মামদানি যুক্তি দিয়েছেন যে, নিউ ইয়র্ক যদি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে, তবে তার প্রভাব পুরো মার্কিন অর্থনীতিতেই পড়বে।

জোহরান মামদানির এই উদ্যোগ সফল হলে নিউ ইয়র্ক সিটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ হবে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক দাবি নয়, বরং অভিবাসী নেতাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং জনকল্যাণে আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক সিটির এই বিশাল আবাসন পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত কতটা সাড়া দেন।

এএন

Link copied!