ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি: ট্রাম্প-শি বৈঠকের প্রভাব ও প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি: ট্রাম্প-শি বৈঠকের প্রভাব ও প্রেক্ষাপট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকাকালীন সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে 'ইরান পরিস্থিতি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে 'বাণিজ্য'।

ট্রাম্পের এই দ্বৈত অবস্থান একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে চীনের মতো বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তির সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চাইছেন চীন যেন ইরানকে দেওয়া তাদের পরোক্ষ সমর্থন কমিয়ে দেয়, বিনিময়ে বেইজিংকে হয়তো নতুন কোনো বাণিজ্যিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

তেহরানের ক্ষোভ: 'পেশাদার মিথ্যাবাদী' বনাম 'গর্বিত জাতি'

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই যুদ্ধ কোনো সাধারণ সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক লড়াই।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধটি একটি গর্বিত জাতি এবং একদল পেশাদার মিথ্যাবাদীদের মধ্যে যারা নৃশংসতার সাফাই গাইতে মিথ্যা অজুহাত তৈরি করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বানোয়াট অভিযোগ তুলে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই 'মিথ্যা অজুহাত' বলতে সম্ভবত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোট এবং ইরানের প্রতিরোধ

বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একীভূত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক জোট ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। দীর্ঘদিনের অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

এই যুদ্ধ কেবল তেহরান বা তেল আবিবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার পথে। লেবানন, ইয়েমেন এবং সিরিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

চীনের ভূমিকা: ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। চীন ঐতিহাসিককাল থেকেই ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের ক্রেতা। ইরানের অর্থনীতি মূলত চীনের ওপর নির্ভরশীল। আবার অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধে জড়ানো চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে শি জিনপিং সম্ভবত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেবেন:

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে।
বাণিজ্যিক ছাড়: ট্রাম্প যদি ইরানের বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চান, তবে চীন নিশ্চিতভাবেই মার্কিন শুল্ক (Tariffs) কমানোর দাবি তুলবে।
কূটনৈতিক সমাধান: চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের একতরফা চাপের বিরোধিতা করে আসছে।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ: বিশ্ব কেন চিন্তিত?

বর্তমান এই পরিস্থিতিকে অনেকেই 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস' হিসেবে দেখছেন। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

ক) অর্থনৈতিক অস্থিরতা

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের ফলে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

খ) প্রযুক্তিগত ও সামরিক ঝুঁকি

আল জাজিরার লাইভ ফিডে সতর্ক করা হয়েছে যে, আধুনিক যুদ্ধের ড্রোন ফুটেজ বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ে এমন সব লাইট প্যাটার্ন বা ছবি থাকতে পারে যা মানুষের স্নায়বিক সমস্যা (যেমন- সিজার) তৈরি করতে পারে। এটি নির্দেশ করে যে, যুদ্ধটি কেবল স্থলপথে নয়, বরং ডিজিটাল এবং তথ্যযুদ্ধের (Information Warfare) স্তরেও অত্যন্ত তীব্র।

গ) মানবিক বিপর্যয়

যে কোনো যুদ্ধের মতো এখানেও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তেহরান এবং এর আশেপাশের এলাকায় বিমান হামলার ফলে মানবিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। গাজা বা ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই নতুন ফ্রন্ট বিশ্ববাসীর জন্য এক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনার টেবিলে কি সমাধান আসবে?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং শি জিনপিংয়ের সাথে তার 'দীর্ঘ আলাপ' বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ট্রাম্প যদি চীনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ইরানকে একটি চুক্তিতে আনতে পারেন, তবে হয়তো বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানো সম্ভব। কিন্তু যদি ট্রাম্প কেবল বাণিজ্যে মনোযোগ দেন এবং ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখেন, তবে তেহরানের 'গর্বিত জাতি' তাদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।

পুরো বিশ্ব এখন ১৩ মে'র এই লাইভ আপডেটের দিকে তাকিয়ে আছে। বেইজিংয়ের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে শান্তির কোনো বার্তা আসে নাকি যুদ্ধের দামামা আরও জোরে বেজে ওঠে- তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, বর্তমান বিশ্বে শান্তি কেবল সামরিক শক্তিতে নয়, বরং কূটনীতি আর বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্যের ওপর টিকে আছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এএন

Link copied!