আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২০, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাওয়া নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অন্তত দুটি জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ফ্লোটিলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলি ছোড়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করা হয়নি এবং এ ঘটনায় কেউ আহতও হননি।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নৌযানগুলোকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের দাবি, গুলি সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং নৌযানের দিকে ছোড়া হয়েছিল এবং এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ফ্লোটিলার আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা প্রায় ৫০টি নৌযানই ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে। এসব জাহাজে ৪০টির বেশি দেশের মোট ৪২৮ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যার মধ্যে ৭৮ জন তুরস্কের নাগরিক।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ৪৩০ জনকে নিজেদের জাহাজে স্থানান্তর করেছে এবং তাদের ইসরায়েলের দিকে নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
দুই পক্ষের দেওয়া তথ্যে আটক ব্যক্তির সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল, গাজার ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার কোনো চেষ্টা তারা অনুমোদন করবে না। মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইসরায়েলের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। এর আগের দুইবারের উদ্যোগও ইসরায়েলি বাধার মুখে পড়ে।
এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ফ্লোটিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের হামাসপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এম জি