আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২৩, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো।
শনিবার থেকে জ্বালানি তেলের এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৮৭ পয়সা বাড়িয়ে ৯৯ দশমিক ৫১ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯২ দশমিক ৪৯ রুপি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে ভারত তুলনামূলক ধীর নীতি অবলম্বন করেছিল।
চলতি মে মাসে তিন দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম মোট প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। এর আগে গত ১৫ মে চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানির দাম বাড়িয়েছিল দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো একবারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে ধাপে ধাপে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর একইভাবে ধাপে ধাপে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
এদিকে এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়াতে দেয়নি। নির্বাচন পার হতেই এখন সাধারণ মানুষের ওপর এই বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে।
তবে ভারত পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ২৫ থেকে ৩০ রুপি এবং প্রতি লিটার পেট্রোলে ১০ থেকে ১৪ রুপি পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। ভারতের তেল মন্ত্রণালয়ও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তেল শোধনাগারগুলো সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত নতুন কোনো আর্থিক প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
উল্লেখ্য, ভারত পেট্রোলিয়াম, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ভারতের প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার জ্বালানি স্টেশনের ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণত তারা সমন্বিতভাবেই খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।
জেএইচআর