আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২৭, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে অবস্থানরত 'অবৈধ বাংলাদেশিদের' দ্রুত সীমান্ত পার হয়ে চলে যাওয়ার জন্য তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক মানুষের জড়ো হওয়ার খবরের সূত্র ধরে তিনি এই কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ পেছনে জনগণের টাকা নষ্ট করতে চাই না।
মঙ্গলবার নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানে হাকিমপুর চেকপয়েন্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি টিভিতে দেখলাম। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও।"
চেকপয়েন্টে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের 'অবৈধ বাংলাদেশি' আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হিন্দিতে বলেন, "জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা।" অর্থাৎ, তারা যেন দ্রুত চলে যায়, অন্যথায় সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, সীমান্ত পয়েন্টে জড়ো হওয়া ওই ব্যক্তিরা মূলত 'বাংলাদেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক'। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের বা পুশ-ব্যাকের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুপ্রবেশকারীদের কারণে স্থানীয়দের ক্ষতি হচ্ছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব? তাদের জেলে বসিয়ে খাওয়াতে চাই না বা তাদের পেছনে জনগণের টাকা নষ্ট করতে চাই না।"
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, জেলে পাঠাতে হবে না। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামা কাপড় পরবে কেন? জামাই নাকি!"
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত আইনটি আগে থেকেই ছিল, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে তা প্রয়োগ করেনি। তিনি বলেন, "আইনটা এতদিন ছিল, ভোটব্যাংকের স্বার্থে কেউ ব্যবহার করেনি। আমরা ভোটব্যাংকের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে এই আইন (নাগরিকত্ব সংশোধন আইন-সিএএ) কার্যকর করব।"
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজ্যে সিএএ (CAA) আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা। সে সময়ই তিনি 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে 'ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট' (শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ও পুশ-ব্যাক) নীতি অনুসরণের জন্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এএন