আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও এর ওপর পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক থাকা অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত ৫টি প্রধান দাবি হলো:
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে থানায় যান।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে এবং কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে। তিনি সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলোর আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে শিক্ষা ব্যয় কমানোর তাগিদ দেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেছেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে জানান, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে বিরোধী দল সমস্যার সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছে।
জেএইচআর