ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রায় ঘোষণার আগে দেশবাসীর উদ্দেশে সালাম জানালেন তাজুল ইসলাম

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:২৫ পিএম

রায় ঘোষণার আগে দেশবাসীর উদ্দেশে সালাম জানালেন তাজুল ইসলাম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম। 

সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ শুভেচ্ছা জানান।

রায়ের দিন আদালতপাড়ার পরিবেশ যখন কঠোর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন চিফ প্রসিকিউটরের এই বার্তা বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তার পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি লিখেছেন, আসসালামু আলাইকুম বাংলাদেশ। আল্লাহ এ দেশকে শান্তি ও নিরাপত্তার জনপদ হিসেবে চিরপ্রতিষ্ঠিত রাখুন। আমিন।
তার এই পোস্টে দেশকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ, রায়ের আগে-পরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং জনগণের উদ্বেগের প্রতিফলন আছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাধারণত খুব সংযত ভাষায় মন্তব্য করেন। এ কারণে রায় ঘোষণার আগে তার এই শুভেচ্ছা যা একদিকে ধর্মীয় সালাম, অন্যদিকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল অবস্থানের প্রতীক-জনমনে নতুন অর্থ বহন করছে।

চিফ প্রসিকিউটরের বার্তা প্রকাশের ঘণ্টাখানেক পরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণহত্যার দায়ে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু হওয়ার কথা। রাষ্ট্রের ইতিহাসে এ মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর ট্রাইব্যুনাল এলাকা, শাহবাগ-হাইকোর্ট-ধানমন্ডি এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

চিফ প্রসিকিউটরের এই সংক্ষিপ্ত বার্তার নিচে মুহূর্তেই শতাধিক প্রতিক্রিয়া জমা হতে থাকে। কেউ কেউ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন এ রায়ের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে, আবার কেউ তার শান্তির বার্তার সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে মন্তব্য করছেন দেশ স্থিতিশীল থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

একজন মন্তব্য করেন, যা-ই হোক, দেশ যেন বিভক্তি ও সহিংসতার দিকে না যায়—এটাই চাই। অন্য একজন লিখেন, চিফ প্রসিকিউটরের ভাষাই বলে দিচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা গুরুতর।

ট্রাইব্যুনাল এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর এ ধরনের বার্তা সাধারণত রায়ের গুরুত্ব প্রতিফলিত করে। তাদের মতে, একটি ঐতিহাসিক মামলার রায়কে ঘিরে যেভাবে দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে শান্তি ও নিরাপত্তার আহ্বান স্বাভাবিক এবং সময়োপযোগী।

এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, রায় যেদিকে যাক, আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চিফ প্রসিকিউটরের বার্তা সে বিষয়টিকেই সামনে এনেছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালতপাড়ায় মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। সাংবাদিক, আইনজীবী, মামলার পক্ষ-বিপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এলাকাটি সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে; ব্যাগ তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

কোর্ট ভবনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। কয়েকটি এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর সুযোগ না থাকে।

রায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াতেও শান্তির আহ্বানই প্রধান। অনেকে মনে করছেন, এমন একটি উচ্চপ্রোফাইল মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যে দেখা যায়-জনগণ এখন সহিংসতা ও সংঘাত নয়, স্থিতিশীলতা চায়।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের ফেসবুক পোস্টটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর প্রতিটি শব্দ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দেশের মানুষের প্রতি সালাম এবং শান্তির প্রার্থনা এই বার্তা দিয়ে তিনি যেন রায় দিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে এক ধরনের নৈতিক আহ্বানই জানালেন।

রায় ঘোষণার আগে দেশ এখন অপেক্ষায়। আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয় এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কীভাবে সামাল দেওয়া হবে-সবকিছু মিলেই আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো একটি সময় হয়ে থাকবে।

জেএইচআর

Link copied!