জীবনযাপন ডেস্ক
মে ৩০, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
কুরবানির ঈদে পরিবার-পরিজন নিয়ে গরু বা খাসির মাংসের হরেক পদের স্বাদ নেওয়াটা বাঙালি সংস্কৃতিরই একটি অংশ। তবে ঈদের দিনগুলোতে টানা ও অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার কারণে অনেকেরই হুট করে পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, হজমের সমস্যা কিংবা ডায়রিয়াকে অনেকেই খুব সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাময়িক অস্বস্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর কিছু শারীরিক কারণ।
কখনো এটি সাধারণ কোনো বদহজম নয়, বরং অ্যালার্জি, ফুড পয়জনিং কিংবা শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গের সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।
১. ‘আলফা-গাল সিন্ড্রোম’ বা মাংসের অ্যালার্জি
অনেকের শরীর লাল মাংসের নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের প্রতি তীব্র সংবেদনশীল বা অ্যালার্জিক হয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে 'আলফা-গাল সিন্ড্রোম' বলা হয়। মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যদি কারও ডায়রিয়া, তীব্র পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে লালচে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে তা এই অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা অবহেলা করলে কখনো কখনো তা জীবনঝুঁকির কারণও হতে পারে।
২. চর্বি ও প্রোটিন হজমে জটিলতা
রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে চর্বি এবং জটিল প্রোটিন থাকে, যা সবার শরীর সহজে পরিপাক করতে পারে না। ফলে মাংস খাওয়ার পরপরই পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি ও পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা শুরু হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এমন লক্ষণ দেখা দিলে কিছুদিনের জন্য মাংসের পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দিয়ে সহজপাচ্য ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত।
৩. ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া
কুরবানির ঈদে মাংস কাটা, ধোয়া, সংরক্ষণ কিংবা রান্নায় সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। মাংস সঠিকভাবে ফ্রিজিং না করা হলে কিংবা আধাসিদ্ধ বা অপর্যাপ্ত রান্না হলে তাতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে। এই জীবাণুযুক্ত মাংস খাওয়ার ফলে ফুড পয়জনিং হয়ে বমি, ডায়রিয়া ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সাধারণত কয়েক দিনে এটি ঠিক হয়ে গেলেও যদি উচ্চ জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৪. পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয়ের অবুঝ সংকেত
যাদের পিত্তথলি কিংবা অগ্ন্যাশয়ে আগে থেকেই মৃদু সমস্যা রয়েছে, চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার পর তাদের হজম প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে তৈলাক্ত বা পাতলা মল, ক্ষুধামন্দা, তীব্র পেট ব্যথা, দ্রুত ওজন হ্রাস কিংবা চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার (জন্ডিসের লক্ষণ) মতো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ঈদের উৎসবকে প্রাণবন্ত রাখতে হলে স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা সবার আগে প্রয়োজন। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ—মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখুন, মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং খাবার টেবিল থেকে শুরু করে রান্নাঘর পর্যন্ত শতভাগ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণকে অবহেলা না করে সচেতন থাকলেই উৎসবের আনন্দ বজায় থাকবে অক্ষুণ্ণ।
সূত্র: এভরিডে হেলথ
এএন