ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ব্যবসায়ীদের দখলে ঢাকার ফুটপাত, বিড়ম্বনায় পথচারী

হাসান ইসলাম

হাসান ইসলাম

আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম

ব্যবসায়ীদের দখলে ঢাকার ফুটপাত, বিড়ম্বনায় পথচারী

পুরান ঢাকা মানেই ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট এখন যেন ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে। লক্ষ্মীবাজার, সদরঘাট, মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনের রাস্তা কিংবা বাহাদুর শাহ পার্ক যেখানেই যাওয়া যায়, চোখে পড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকান। হাঁটার জায়গা না পেয়ে পথচারীদের নামতে হয় গাড়ি চলার রাস্তায়, আর তাতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে নানান পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পুরাণ ঢাকার লক্ষ্মীবাজার ও সদরঘাট ফুটপাতগুলোতে দেখা যায় এধরনের ভাসমান দোকান। যেখানে দুপুর গড়াতেই দোকানদাররা তাদের ফাস্টফুডের দোকান, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, কসমিটক্সি-এর দোকানগুলো খোলা শুরু করে। ফলে ফুটপাত ধরে যাতায়াতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে ফুটপাত ধরে হাঁটার উপায় না পেয়ে সড়কে নামতে দেখা যায় পথচারীদের। 

এ পথ ধরেই প্রতিনিয়ত ভার্সিটিতে ক্লাস করতে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো পরিস্থিতি নেই। ক্লাসে আসা-যাওয়ার সময় গাড়ির ভিড়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। সরকারের উচিৎ এদিকটাতে নজর দেওয়া।’ 

এক স্কুলশিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘ফুটপাত তো মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু এখন দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। সবখানে দোকান, দোকান আর দোকান। বাচ্চাকে নিয়ে ফুটপাতে হাঁটা যায় না, রাস্তায় গাড়ির মধ্যে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হয়। এগুলো দেখার কেউ নেই।’ 

এ ব্যাপারে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। অনেকেই এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। আর লক্ষিবাজারের এক ফুটপাত কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ভাড়া দিয়ে দোকান চালানোর ক্ষমতা নেই। ফুটপাত ছাড়া আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই।’
 
কিন্তু ফুটপাতেই দোকান বসিয়ে তারা যে হাজার হাজার মানুষকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে, সে দায় স্বীকার করতে চান না।  আবার বংশাল, ধোলাইখাল, দয়াগন্জ এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ী দোকান ভাড়া করে সামনের ফুটপাতসহ দখল করে রেখেছে। ব্যবসায়ীরা দোকানের পণ্য ফুটপাতে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে। যার ফলে ঝুকি নিয়েই চলন্ত গাড়ি থামিয়ে পথ চলছেন পথচারীরা। 

পথচারীরা বলছেন, নগরের এসব দেখভাল ও সমস্যা সমাধান করার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। মাঝে মাঝে দেখা যায় সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা খরচ করে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কিন্তু কিছুদিন পর ফুটপাতগুলোতে আবার একই চিত্র দেখা যায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে রয়েছে চাঁদাবাজি আর প্রভাবশালীদের যোগসাজশ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। ফলে ফুটপাত  হয়ে উঠেছে যেন এক প্রকার ‘বেচাকেনার জায়গা’, যেখানে নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অবশ্য দাবি করে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, এবং এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, অভিযান শেষ হলেই সিটি করপোরেশন তাদের দায়িত্ব ভুলে যান, আর কয়েকদিনের মধ্যেই ফুটপাত আবার আগের চেহারায় ফিরে আসে।

এইচই/জেএইচআর

Link copied!