ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
অহিদুল ইসলাম

নিরাপদ খাদ্য শুধু আইন নয়, সামাজিক দায়

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ১২:৫২ পিএম

নিরাপদ খাদ্য শুধু আইন নয়, সামাজিক দায়

‘নিরাপদ খাদ্য শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।’ এমন মন্তব্য করেছেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। ‘নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’ আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) আ.ন.ম. নাজিম উদ্দীন।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা যদি একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধ হই, তাহলে মাগুরা হতে পারে নিরাপদ খাদ্যের একটি আদর্শ জেলা। এটা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, বিপিএম, পিপিএম এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী বলেন, “খাবার তৈরিতে ভোজ্য তেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারসহ খাবারের নিরাপত্তার বিষয়ে কারও সঙ্গে আপস নয়। আইন লঙ্ঘনকারীকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। স্বাস্থ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

কর্মশালায় অংশ নিয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব হলো জনগণকে সচেতন করা। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান হোটেল ব্যবসায়ী ও খাবারের গুণগত মান নির্ণয় বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

মাগুরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তার বক্তব্যে মৃত মুরগি, ফলে ফরমালিন প্রয়োগ, ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি প্রতিরোধে আহ্বান জানান।

কর্মশালায় উন্মুক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ও তার সমাধানমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মকর্তা কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।

কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩, খাদ্য স্পর্শক প্রবিধানমালা, ২০১৯ এবং খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সঠিক নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অমিতাভ মণ্ডল, অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে এখনও অনেক হোটেল–রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কালি ও রাসায়নিক পদার্থ ক্যানসার, কিডনি ও লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার, খাবার সংরক্ষণের অযথাযথ পদ্ধতি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি ইত্যাদি আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।

খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনে যেসব বিষয় মেনে চলার পরামর্শ:

  • খাবার পরিবেশনে খবরের কাগজ ব্যবহার না করা।
  • রান্নার আগে ও পরে হাত ধোয়া।
  • গ্লাভস ও এপ্রন পরা।
  • কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা।
  • গরম খাবার ৬০°সে. এবং ঠান্ডা খাবার ৫°সে. তাপমাত্রায় সংরক্ষণ।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ, বাসি ও দূষিত খাবার এড়িয়ে চলা।

নিরাপদ খাদ্য আইনে বিভিন্ন শাস্তি:

  • মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি: ৩ বছর জেল বা ১২ লাখ টাকা জরিমানা।
  • খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক: ৩ বছর জেল বা ১২ লাখ টাকা জরিমানা।
  • বিভ্রান্তিকর লেবেলিং: ২ বছর জেল বা ৮ লাখ টাকা জরিমানা।
  • অনিবন্ধিত খাদ্য ব্যবসা: ১ বছর জেল বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ে পরীক্ষণ ল্যাব, নিয়মিত মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

কর্মশালার শেষে জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের এই কর্মশালাটি মাগুরার জন্য একটি নতুন সূচনা। সরকার, প্রশাসন ও জনগণ একত্রে কাজ করলে আমরা একটি নিরাপদ খাদ্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।

জেএইচআর

Link copied!