বিশেষ প্রতিনিধি
নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৩:৫০ পিএম
রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবহারে এখন থেকে আর রিচার্জের জন্য স্টেশনে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। র্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস কার্ডে যুক্ত হলো অনলাইন রিচার্জের সুবিধা যার মাধ্যমে যাত্রীরা ঘরে বসেই বা যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন।
দেশের গণপরিবহন খাতে এটি এক বড় ডিজিটাল অগ্রগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সেবার উদ্বোধন হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক, সেতু ও রেল) শেখ মইনউদ্দিন। তিনি এ সুবিধাকে দেশের গণপরিবহনের ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, অনলাইন রিচার্জ সুবিধার মাধ্যমে যাত্রীরা ব্যাংকের ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ছাড়াও বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সকল ধরনের অনলাইন পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে স্টেশনে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করা বা ঝামেলা পোহানোর প্রয়োজন পড়বে না।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, গণপরিবহন খাতে সেবা উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। মেট্রোরেলের অনলাইন রিচার্জ ব্যবস্থা সেই দিকেই এক বড় পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা যুক্ত করে যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিখিল কুমার দাস বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যাত্রীদের সময় বাঁচবে, পাশাপাশি রিচার্জ প্রক্রিয়া হবে নিরাপদ ও স্বচ্ছ। যাতায়াত ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে গণপরিবহনের অন্যান্য খাতেও ডিজিটাল সেবা যুক্ত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, এটি ছিল যাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। অনলাইন রিচার্জ যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করবে এবং নগদহীন লেনদেনকে আরও বিস্তৃত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, স্মার্ট ও ঝামেলামুক্ত নগরপরিবহনব্যবস্থা গড়তে এর যাত্রা আরও একটি বড় ধাপ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীর মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনে দুটি করে মোট ৩২টি অ্যাড ভ্যালু মেশিন বসানো হয়েছে। অনলাইনে রিচার্জ করার পর যাত্রীরা এসব মেশিনে কার্ড স্পর্শ করালেই ব্যালেন্স আপডেট হয়ে যাবে।
পরবর্তী সময়ে যাত্রীসেবা বাড়াতে এভিএমের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, আগামী মাসেই উন্মোচিত হবে মেট্রোরেলের অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ। অ্যাপের মাধ্যমে, অনলাইন রিচার্জ, ব্যালেন্স দেখা, ট্রান্সেকশন হিস্ট্রি, রুট ও স্টেশন তথ্য, ট্রেনের সময়সূচি সবকিছুই জানা যাবে। এতে মেট্রোরেল সেবার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আধুনিক হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিআরটিসির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শরাফত উল্লাহ খান, ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম, এসএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম।
তাদের সকলেই একমত হন যে, দেশের গণপরিবহন উন্নয়নে ডিজিটাল পেমেন্ট ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন রিচার্জ সেবা সম্পর্কে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া আশাব্যঞ্জক। মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীরা জানান, অফিস টাইমে রিচার্জের লাইনে দাঁড়ানো তাদের জন্য বড় ভোগান্তি ছিল। অনলাইন রিচার্জের ফলে সকালে যাত্রার আগেই মোবাইল থেকে রিচার্জ করা যাবে, যা যাতায়াতকে করবে আরও সময় সাশ্রয়ী।
একজন যাত্রী বলেন, স্টেশনে গিয়ে রিচার্জ করতে অনেক সময় লেগে যেত। এখন এক মিনিটেই বাড়ি থেকে রিচার্জ করা যাবে এটা সত্যিই বড় সুবিধা।
বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে মেট্রোরেল এক আধুনিক নগর পরিবহনের নতুন যুগ সূচনা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর রিচার্জ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় সেবা আরও আধুনিক হলো। নগদহীন লেনদেন বাড়বে, যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী দিনে মেট্রোরেল সেবা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার পরিধিও বৃদ্ধি পাবে। কর্তৃপক্ষ জানায়, অদূর ভবিষ্যতে টিকিটিং, নিরাপত্তা, যাত্রী সেবা সব ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তিই প্রধান হাতিয়ার হবে।
ইএইচ