ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

সরকারের দায়িত্ব শেষে ড. ইউনূসের লক্ষ্য তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

সরকারের দায়িত্ব শেষে ড. ইউনূসের লক্ষ্য তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও তিনি সমাজ সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে দূরে সরবেন না। বরং তিনটি সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক ও জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি তাঁর পরবর্তী কর্মজীবনে তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন। 

রোববার জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তর। তিনি আকি আবের প্রতিনিধি দলকে জানান, দেশের নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে তিনি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।

এছাড়া, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল হেলথ কানেক্টিভিটি তৈরির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য ডিজিটাল রেকর্ড আকারে দেখতে পাবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন। এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনবে বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বরাবরই তরুণ শক্তি ও তাঁদের সৃজনশীলতার ওপর বিশ্বাসী। তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি তাঁর চিরাচরিত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্বের আলোকে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমে পুনরায় পূর্ণ মনোযোগ দেবেন। তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে চাকরি দাতা হিসেবে গড়ে তোলার যে সামাজিক ব্যবসা মডেল তিনি তৈরি করেছেন, সেটির প্রচার ও প্রসার আগের চেয়ে আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাবেন।

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকবেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো আন্তর্জাতিক এজেন্ডাগুলোতে তিনি নিজের সক্রিয় অংশগ্রহণ বজায় রাখবেন।

সাক্ষাতে আকি আবে তাঁর প্রয়াত স্বামী শিনজো আবের সঙ্গে ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক সম্পর্কের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. ইউনূসও জাপানের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রতি শিনজো আবের ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে অধ্যাপক ইউনূস জাপান সফর করবেন। সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে এই সফরে তিনি সামুদ্রিক গবেষণা (Ocean Research) ও প্রযুক্তি বিনিময়সহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল সংকটে পড়া রাষ্ট্র মেরামতের দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও বিশ্বের উন্নয়নে একটি সুদূরপ্রসারী নকশা তাঁর হাতে রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয় থেকে বেরিয়ে এসে আবারও সামাজিক সংস্কারক হিসেবে তিনি নতুন উদ্দীপনায় কাজ শুরু করবেন—এটাই এখন তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের প্রত্যাশা।

জেএইচআর

Link copied!