ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
আইন উপদেষ্টা

ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত সংস্কার আর কখনও হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিনিধি

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত সংস্কার আর কখনও হয়নি

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট সরকারের অধীনে এত কম সময়ে এত ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম আগে কখনও পরিচালিত হয়নি বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সংস্কার নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি আমি সবিনয় বলব এবং অত্যন্ত জোরে বলব।

রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি ‘কমন ট্রেন্ড’ বা সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলাকে স্বাগত জানালেও এর পেছনে তিনটি নেতিবাচক মানসিকতা কাজ করছে বলে মনে করেন।

আসিফ নজরুল বলেন, অনেকে ঢালাওভাবে বলছেন কোনো সংস্কারই হয়নি। এটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমাদের সরকারের সময়ে শুধুমাত্র আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার সুফল দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে। ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এগুলো সুপরিকল্পিত সংস্কার ছাড়া সম্ভব ছিল না।

তিনি আরও যোগ করেন, সময়ের সীমাবদ্ধতার তুলনায় যতটুকু কাজ হয়েছে তা যথেষ্ট। হয়তো প্রত্যাশা আরও বেশি থাকতে পারে, কিন্তু ‘কিছুই হয়নি’—এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে দ্বিতীয় নেতিবাচক দিক হিসেবে তিনি ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য’ করার প্রবণতাকে দায়ী করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিতর্কিত পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করেন। আসিফ নজরুল অকপটে স্বীকার করেন যে, এই অধ্যাদেশ নিয়ে তাঁর নিজেরও কিছু হতাশা রয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো কাজের একটি শুরু থাকে। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে আমাদের আরও প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু যা অর্জিত হয়েছে তাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কোনো একটি উদ্যোগ শতভাগ নিখুঁত না হলেও সেটিকে তুচ্ছজ্ঞান করা সংস্কারের স্পৃহা কমিয়ে দেয়।

সংস্কার কমিশনগুলোর কাজ নিয়ে নাগরিক সমাজের একাংশের সমালোচনার জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন সরকার কারও সঙ্গে পরামর্শ করছে না। এই দাবিকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি ঐতিহাসিকভাবে তুলনা করে বলেন, বর্তমান কমিশনগুলো যেভাবে সব মহলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা (Extensive Consultation) করছে, তেমনটি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়নি। আমরা প্রতিটি স্তরে মানুষের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করছি।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রায়ই বলা হয় তাঁদের কথা রাখা হয়নি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আইন উপদেষ্টার মতে, নাগরিক সমাজ যদি ১০টি প্রস্তাব দেয়, তবে সরকার সেখান থেকে অন্তত ৬টি গ্রহণ করেছে। এ সময় তিনি সবাইকে গঠনমূলক সমালোচনা করার পাশাপাশি ‘সত্য কথা’ বলার অনুরোধ জানান।

সংলাপে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি কাঠামো রেখে যেতে চাই যেখানে বিচারকরা কোনো ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে রায় দিতে পারেন।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সংস্কারের এই যাত্রা চলমান এবং এটি কেবল সরকারি আদেশ-নির্দেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের একটি চেষ্টা।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারা আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের কিছু বিষয়ে একমত হলেও বিচার বিভাগের দ্রুত সংস্কার এবং মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে মব জাস্টিস এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবি জানান অনেক রাজনৈতিক নেতা।

সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় এই সংলাপে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, সংস্কারের সুফল পেতে হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে হবে এবং আইনের শাসনের প্রয়োগ সর্বস্তরে নিশ্চিত করতে হবে।

ড. আসিফ নজরুলের আজকের এই বক্তব্য মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের ওপর একটি শক্তিশালী আত্মপক্ষ সমর্থন। যেখানে তিনি পরিসংখ্যান ও যুক্তির মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, সরকার কেবল সময়ক্ষেপণ করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে। তবে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশার পারদ যে অনেক উঁচুতে, আজকের উত্তপ্ত সংলাপ তারই প্রমাণ দিল।

এএন

Link copied!