আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তিকে দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হলো।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল থেকে দুই দেশের ধারাবাহিক আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগের ফল হিসেবেই এই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এটি পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় ও দূরদর্শী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহ, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদারে উন্নত সামরিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, ব্যবহারবিধি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।
চুক্তিতে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপান সরকার আশা করছে, এর ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং একই সঙ্গে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেএইচআর