ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের আইনি বৈধতা

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

মার্চ ৪, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের আইনি বৈধতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এক নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম ভিত্তি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং এর বাস্তবায়নে গৃহীত ‘গণভোট’ এখন উচ্চ আদালতের কাঠগড়ায়।

মঙ্গলবার হাইকোর্ট কর্তৃক জারি করা রুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশন এবং প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একদিকে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতভেদ সব মিলিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এক কণ্টকাকীর্ণ পথে এসে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন এবং টেকসই শাসনব্যবস্থা কায়েম করা।

এই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে জারি করা হয়েছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। রাষ্ট্রপতির এই আদেশের ওপর ভিত্তি করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি তথ্যমতে, ৬৫ শতাংশের বেশি ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। কিন্তু সেই ম্যান্ডেট বা গণরায়ের আইনি ভিত্তি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

হাইকোর্ট জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের অধ্যাদেশ এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এই রুলের পর আইন অঙ্গনে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বিষয়টিকে বেশ কঠোরভাবে দেখছেন। তার মতে, বর্তমান সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সমান্তরাল পরিষদ গঠন করার আইনি সুযোগ নেই। 

তিনি বলেন, আদালত সংবিধানের অধীনে পরিচালিত হয়। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পরিষদের শপথ নেওয়া বা অধ্যাদেশ জারি করার বৈধতা আদালত কতটুকু দেবে, তা প্রশ্নের বিষয়। বিএনপি যেহেতু এই শপথ নেয়নি এবং তারা একে শুরু থেকেই অবৈধ বলছে, তাই আইনি দৃষ্টিতে এটি একটি জটিল অবস্থায় পড়েছে।

অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, পুরো প্রক্রিয়াটিই একটি ‘ভ্রান্ত ধারণা’র ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে। তার মতে, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সার্বভৌম সংসদ রয়েছে, সেখানে আলাদা করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো প্রয়োজন নেই। সংসদ নিজেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে যেকোনো সংস্কার পাশ করার ক্ষমতা রাখে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবং এনসিপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়ার পর তাদের সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের শরিকরা এই শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে।

বিএনপির দাবি, গণভোট বা বিশেষ কোনো পরিষদের মাধ্যমে নয়, বরং সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যেহেতু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের বা সমমনাদের হাতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই তারা বাইরের কোনো কাঠামোর হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য শরিক দলগুলো মনে করছে, জুলাই সনদের ম্যান্ডেট রক্ষা করতে হলে এই বিশেষ পরিষদ কার্যকর রাখা জরুরি। আদালতের রুলের পর তারা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য শরীফ ভূঁইয়া এই পরিস্থিতিতে কিছুটা উদ্বিগ্ন। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের কারণে সংস্কারের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। 

তার ভাষ্যমতে, সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া মানে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার ওপর আঘাত। এই পরিষদ থাকলে সংস্কারগুলো আরও টেকসই হতো। এখন আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো ১২ মার্চের অধিবেশনে কী ভূমিকা রাখে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

আগামী ১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইকোর্টের রুলের জবাব দেওয়ার আগেই সংসদকে এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে। যদি সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো সরাসরি সংসদে উত্থাপন করে পাশ করার বিষয়ে একমত হয়, তবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক থিতিয়ে যেতে পারে।

জুলাই সনদে মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সনদের ‘অন্তর্বস্তু’ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের কোনো মৌলিক পরিবর্তনের জন্য ৩৭০ অনুচ্ছেদ বা সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রাধান্য অনস্বীকার্য। হাইকোর্টের রুল মূলত সেই সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্বকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে জুলাই-আগস্টের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ যদি কেবল আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায়, তবে তা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে।

এএন

Link copied!