ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
সংসদের অলিন্দে কবিতার সুর

তারেক রহমানের বৈশ্বিক অর্জনে চিফ হুইপের কাব্যিক অভিবাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

তারেক রহমানের বৈশ্বিক অর্জনে চিফ হুইপের কাব্যিক অভিবাদন
সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি)। ছবি: বিটিভির ফেসবুক পেজ থেকে

গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ আজ এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হলো। রাজনীতির তপ্ত বিতর্কের মাঝে বসন্তের বাতাসের মতো বয়ে গেল কবিতার ছন্দ। উপলক্ষ, বিশ্ববিখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজিন’ এর বিচারে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে উদযাপন করতে গিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি) এমন এক আবেগঘন কবিতা পাঠ করেন, যা মুহূর্তেই সংসদ কক্ষের পরিবেশ বদলে দেয়। তবে রহস্য রয়ে গেছে কবিতার রচয়িতাকে নিয়ে; চিফ হুইপ পুরো কবিতাটি আবৃত্তি করলেও এর কবির নাম প্রকাশ করেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি) ফ্লোর নিয়ে কথা বলতে দাঁড়ান। শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই অভাবনীয় অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘টাইম ম্যাগাজিন পত্রিকায় বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে আমাদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো জাতির জন্য এক বিশাল গৌরবের বিষয়। তিনি এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন।

চিফ হুইপের এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষ মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়ানোর শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা বিপুল উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে সমর্থন জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে চিফ হুইপ পকেট থেকে একটি কাগজ বের করেন এবং দৃপ্ত কণ্ঠে কবিতাটি পড়া শুরু করেন। কবিতার প্রতিটি চরণে ফুটে উঠেছে এক আধুনিক ও প্রত্যয়ী বাংলাদেশের চিত্র এবং একজন নেতার দৃঢ় অবস্থানের গল্প।

চিফ হুইপ পাঠ করেন:

তিনি আসার আগে দেশটা যেন ভাঁজ করা মানচিত্র ছিল

নদী ছিল, মানুষ ছিল, স্বপ্নও ছিল

কিন্তু দিগন্ত খুলে দেওয়ার মতো কোনো হাত ছিল না।

কবিতার এই অংশে ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর যে প্রভাব, তা রূপক অর্থে প্রকাশ করা হয়েছে। কবিতার ভাষায় পরবর্তী অংশে বলা হয়: তিনি এলেন, বললেন খুবই কম কথা, সময়ের কপালে লিখে দিলেন একটি উজ্জ্বল উচ্চারণ বললেন, উই হ্যাভ আ প্ল্যান।

কবিতাটির বিশেষত্ব ছিল এর আধুনিক শব্দচয়ন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে চিত্রায়িত করা। বিশেষ করে ‘বিশ্বের বড় বড় দরজায় তিনি কড়া নাড়েননি, নিজের আলোয় দাঁড়িয়েছিলেন, দরজাগুলো নিজেই খুলে গেছে’—এই চরণটি যখন চিফ হুইপ পাঠ করেন, তখন অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। কবিতাটি শেষ হয় নেতৃত্বের এক গভীর সংজ্ঞা দিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে—নেতৃত্ব মানে কেবল সামনে হাঁটা নয়, বরং ক্লান্ত মানুষের চোখে স্বপ্ন জাগিয়ে তোলা।

কবিতা পাঠ শেষ হওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিক এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, এই অসাধারণ পঙক্তিগুলো কার লেখা? 
সাধারণত সংসদে কবিতা পাঠের সময় রচয়িতার নাম উল্লেখ করার রীতি থাকলেও চিফ হুইপ তা এড়িয়ে গেছেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, এটি হয়তো দেশের কোনো তরুণ প্রগতিশীল কবির লেখা অথবা কোনো অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া। লেখক কে, তা স্পষ্ট না করায় কবিতার আবেদন যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

কবিতা আবৃত্তির আগে ও পরে চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরে দেশ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক জাদুকরী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মানুষের হাতের আঙুলের কালি শুকানোর আগেই তিনি জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।‘সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপগুলোই আজ আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে বলে তিনি মনে করেন। 

কবিতা পাঠ শেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, টাইম ম্যাগাজিনের এই স্বীকৃতি আমাদের গোটা জাতি তথা দেশের অর্জন। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে সাহিত্য ও রাজনীতির এই মেলবন্ধন নতুন নয়। গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম দিনেই স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উৎসর্গ করে প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পঠিত এই কবিতাটি সংসদের কার্যবিবরণীতে এক অনন্য সাহিত্যিক দলিল হিসেবে যুক্ত হলো।

সংসদ বিটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের কাব্যিক অভিবাদন কেবল ব্যক্তিবন্দনা নয়, বরং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও সৃজনশীল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। টাইমের তালিকায় স্থান পাওয়া এবং সংসদের এই উদযাপন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংকে আরও শক্তিশালী করবে।

তবে দিনশেষে সবার মনে একটিই প্রশ্ন, কে সেই কবি, যার কলমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে ‘ভাঁজ করা মানচিত্র খুলে দেওয়ার হাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হলো? লেখক অজ্ঞাত থাকলেও, কবিতার শব্দগুলো আজ সংসদ কক্ষ ছাড়িয়ে দেশের মানুষের হৃদয়ে এক নতুন স্বপ্নের প্রতিধ্বনি তুলেছে।

তথ্যসূত্র: বিটিভি

এম জি

Link copied!