ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
ফাইল ছবি

তপ্ত রোদে পুড়ে যাওয়া প্রকৃতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে কালবৈশাখী, তবে সাথে বয়ে আনছে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা। আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে দেশের বড় একটি অংশ জুড়ে ধেয়ে আসতে পারে কালবৈশাখী ঝড়। 

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আভাস দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত এই জনপদে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। চৈত্র-বৈশাখের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির এমন উত্তাল রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি আছে উৎকণ্ঠা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রায় সর্বত্রই মেঘের ঘনঘটা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দুপুর ১টার মধ্যে নিচের অঞ্চলগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে:

উত্তরাঞ্চল: রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া।
মধ্যাঞ্চল: ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর।
দক্ষিণাঞ্চল: খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী।
পূর্ব ও উপকূলীয় অঞ্চল: নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট।

আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা এই ঝড়টি ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। যেহেতু এই গতিবেগ ছোট নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন এই বৃষ্টির আভাস অনেকের কাছেই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, এটি সাধারণ বৃষ্টির চেয়েও বেশি 'বজ্রবৃষ্টি' হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে।

ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কাটবে না। তবে বৃষ্টির স্থায়িত্ব এবং পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিকালের দিকে আবহাওয়া মনোরম হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মেঘের ঘনঘটা শুরু হলে খোলা মাঠে না থাকা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে হাওর অঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা এই ১ নম্বর সতর্ক সংকেতের অর্থ হলো- অঞ্চলটি ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়তে পারে। ছোট লঞ্চ, ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঝড়ের মেঘ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসাই শ্রেয়। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল বা ঢাকা-চাঁদপুর রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কৃষিখাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য। শিলাবৃষ্টি হলে আমের গুটি বা লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে হুট করে ঝড় শুরু হলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গাছ উপড়ে পড়া বা বিলবোর্ড ধসে পড়ার মতো দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এপ্রিল মাস বরাবরই কালবৈশাখীর মাস হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঝড়ের তীব্রতা এবং সময় পরিবর্তনের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখছেন আবহাওয়াবিদগণ। উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য এবং হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চল থেকে আসা শীতল বাতাসের সাথে সমতলের তপ্ত বাতাসের সংমিশ্রণেই এই শক্তিশালী মেঘমালা বা ‘থান্ডার ক্লাউড’ তৈরি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, এটি একটি স্বাভাবিক মৌসুমি প্রক্রিয়া হলেও স্থানীয়ভাবে এর প্রভাব খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। রাডার চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মেঘের পুঞ্জিগুলো বেশ শক্তিশালী হয়ে দানা বাঁধছে, যা স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণ ঘটাতে সক্ষম।

আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের কিছু প্রস্তুতি রাখা জরুরি। 

ঝড় শুরু হলে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিন। টিনের চাল বা কাঁচা ঘর এই গতির ঝড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বজ্রপাত চলাকালীন মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে দেবেন না। বৈদ্যুতিক লাইন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাই নিরাপদ।

ঝড়-বৃষ্টির সময় গবাদি পশুকে খোলা জায়গায় না রেখে নিরাপদ ছাউনির নিচে রাখুন। ঝড়ের সময় বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে দাঁড়ানো প্রাণঘাতী হতে পারে।

আজ দুপুর পর্যন্ত সতর্কবার্তার সময়সীমা দেওয়া হলেও বিকালের পর আবহাওয়ার আরও পরিবর্তন হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা এই ঝড়ো হাওয়া সারা দেশে প্রশান্তি ছড়াবে নাকি ক্ষয়ক্ষতির কারণ হবে, তা নির্ভর করছে ঝড়ের গতির ওপর।

আপাতত ১৭ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য সচেতন থাকাই এখন প্রধান কাজ। নদীবন্দরগুলোতে নিয়োজিত কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে।

মেঘের গুড়গুড় শব্দ আর শীতল বাতাসের এই বার্তায় প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকুক, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। তবে মনে রাখতে হবে, প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে সতর্কতা এবং সঠিক তথ্যই হলো আমাদের প্রধান ঢাল। পরবর্তী আপডেট পেতে নিয়মিত আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

এএন

Link copied!