ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টাইগারদের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে রাষ্ট্রপতি ও দেশের আপামর জনসাধারণের পাশাপাশি অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় ক্রিকেট দলের এই গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের পরপরই এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়, কোচ এবং দলীয় ব্যবস্থাপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেটাররা মাঠের লড়াইয়ে যে অদম্য স্পৃহা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই প্রথম টেস্ট জয় আমাদের ক্রিকেটের এক নতুন মাইলফলক। 

তিনি আরও যোগ করেন, টাইগারদের এই জয় প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দলের অধিনায়ক ও ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন।

মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ২৬৮ রান। কিন্তু মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে টাইগার বোলারদের তোপের মুখে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। ফলে ১০৪ রানের এক দাপুটে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট প্রদর্শন করেছে। ব্যাটিংয়ে ওপরের সারির দৃঢ়তা এবং মধ্যভাগের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর বল হাতে জ্বলে ওঠেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজরা। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়ে জয় ত্বরান্বিত করেন বাংলাদেশের স্পিনাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে টানা তিন জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে গত বছরে পাকিস্তান সফরে গিয়ে তাদেরই মাটিতে দুটি টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করেছিল টাইগাররা। আজ ঘরের মাঠে জয়ের মাধ্যমে সেই আধিপত্য বজায় রাখল বাংলাদেশ। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয়, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। 

এক সময় টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করাটাই যেখানে চ্যালেঞ্জ ছিল, সেখানে এখন পাকিস্তান বাংলাদেশকে হারাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানসিক দৃঢ়তা এবং কৌশলগত উন্নতির পরিচায়ক।

পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে পাকিস্তান যতবার বাংলাদেশে এসেছে, টেস্ট ফরম্যাটে তারা দাপট দেখিয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ১২ মে ২০২৬ তারিখে মিরপুর স্টেডিয়ামে সেই বন্ধ্যাত্ব ঘুচল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। মিরপুরের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক এবং টেলিভিশন পর্দার সামনে থাকা কোটি ক্রিকেট ভক্ত এই মাহেন্দ্রক্ষণকে উৎসবের আমেজে উদযাপন করছেন।

বাংলাদেশের এই জয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। ২৬৮ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পেছনে যেমন শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, তেমনি বল হাতে ১৬৩ রানে পাকিস্তানকে আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে পেসার ও স্পিনারদের চমৎকার সমন্বয় কাজ করেছে। বিশেষ করে স্পিন বিষে নীল হয়েছে পাকিস্তানের মধ্যভাগ। দ্রুত উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়লে আর সেই চাপ সামাল দিতে পারেনি।

বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর মিরপুরের ক্রিকেটের তীর্থস্থানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয় মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশ দলের এই জয়কে নতুন বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয় হিসেবে অভিহিত করছেন।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এখন টাইগারদের সামনে। 

প্রধানমন্ত্রী তার অভিনন্দন বার্তায় আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশ একইভাবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগী এবং বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং এটি বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির বার্তা। 

পাকিস্তানের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে টানা তিন জয় প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন টেস্ট ফরম্যাটেও যেকোনো দলের জন্য হুমকি। প্রধানমন্ত্রী তার বার্তার শেষে খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতা কামনা করেছেন এবং আগামী দিনগুলোতে দেশের সম্মান আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জেএইচআর

Link copied!