ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

প্রতিবন্ধী বাবার ‘আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর’ দায়িত্ব নিলেন ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ২১, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

প্রতিবন্ধী বাবার ‘আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর’ দায়িত্ব নিলেন ডিসি ফরিদা

টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের।

পরে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তাজিমের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় এবং আগামীতেও এই শিশুর চিকিৎসার ব্যয়ের পুরো দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আরেক শিশু তামজিদেরও দায়িত্ব নেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ফরিদা খানম বলেন, প্রতিটি শিশুই আমাদের সন্তান। একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জেলা প্রশাসক; আমি তো মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকেও ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকার আওতায় আনতে হবে।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের সময়মতো এমআর/হাম টিকা নিশ্চিত করুন। হাসপাতালে রোগীর চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার যেন চিকিৎসাসেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ঢাকা সবসময় অসহায় ও দুস্থ রোগীদের বিভিন্ন সময়ে সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি জানান, পরিদর্শনের সময় এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সন্তানের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। অর্থাভাবে পরিবারটি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছিল। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এই শিশুর চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নরসিংদী থেকে আসা তামজিদের চিকিৎসার জন্যও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের পরিবারে। প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। কীভাবে আইসিইউর খরচ দেব, সেই চিন্তায় দিশেহারা ছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।

শিশু তামজিদের মা শাহিনুর বলেন, ডিসি আপা যে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন তাতে নতুন করে বাচ্চাটা হয়তো আলোর মুখ দেখবে।

এএন

Link copied!