আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২০, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও সারাদেশে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের কৌশল নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বর্তমান অগ্রগতি, তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্মসূচিটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য পরিবারগুলোর কাছে কীভাবে কার্যকরভাবে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও তদারকির পুরো প্রক্রিয়ায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অনিয়ম ও ভুয়া সুবিধাভোগীর অন্তর্ভুক্তি রোধ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং অন্যান্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তথ্য সংগ্রহ, প্রাথমিক যাচাই এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগী নির্বাচন—প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম যাতে না ঘটে, সেজন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে আরও বলা হয়, শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নয়, অর্থ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার এবং পরিসংখ্যান বিভাগের মতো সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সামাজিক সুরক্ষাবলয় শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে সরাসরি সামাজিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মসূচির একটি বাস্তবসম্মত ও পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত কিছু এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। পরে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ.বি.এম. আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের SDG বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস.এম. আবদুল আউয়াল এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকেরা বৈঠকে অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশ দেন, কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে সঠিক ব্যক্তির হাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
এম জি