নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত পাঁচ দশক ধরে চলে আসা প্রথাগত ভোটের সমীকরণ এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তার মতে, গতানুগতিক দলের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের হিসাব এখন অতীত; জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ এখন পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে রায় দিতে মুখিয়ে আছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব ২০২৬ শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে যে সমীকরণ ৫০ থেকে ৫৫ বছর ধরে চলে আসছিল, এবারের নির্বাচনে সেই প্রতিটি হিসাব ভেঙে গেছে। আপনারা বাজারে সবজিওয়ালা থেকে শুরু করে রিকশাচালক, শিক্ষক কিংবা ছাত্র, যেকোনো পেশার মানুষের সাথে কথা বললে বুঝতে পারবেন যে মানুষের রাজনৈতিক চিন্তা বা জনতাত্ত্বিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, নির্দিষ্ট দলের ৩০ বা ৪০ শতাংশ স্থায়ী ভোটের যে ধারণা আগে ছিল, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এবার সেই ধারণা বদলে দেবে।
বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের গুম, খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ কি আবারও সেই অপশাসনের পথে হাঁটবে?
একটি প্রধান দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগেই কোনো কোনো দলের মধ্যে গত ১৭ বছরের সেই কার্যক্রমেরই এক ধরনের পুনরাবৃত্তি গত দেড় বছরে দেখা গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একদিকে হেলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। আমরা চাই না বর্তমান কমিশন অদূর ভবিষ্যতে আগের বিতর্কিত কমিশনারদের মতো কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যদি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আবারও রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১০টি দলের এ ঐক্য কেবল ক্ষমতা বা আসন ভাগাভাগির জন্য নয় বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, এ ঐক্য গড়ে উঠেছে কিছু মৌলিক নীতি ও সংস্কারের ভিত্তিতে। আমরা বিজয়ী হলে চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করব। এক সময় গুঞ্জন ছিল যে আসিফ মাহমুদ নিজে ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং জোটের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের পক্ষে কাজ শুরু করেন।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-১০ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। কোনো চাঁদাবাজ, স্বীকৃত সন্ত্রাসী বা খুনি যেন এ আসনে বিজয়ী হয়ে পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য নুর নবী মানিক। প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত ইসলামি সংগীত ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাবেশটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়। এ সময় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচ