কক্সবাজার প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর আকাশে আজ ডানা মেলল নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হেলিকপ্টারযোগে মহেশখালীর মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে হাজারো নেতা-কর্মী স্লোগানে স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন।
উপতরণস্থল থেকে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি সড়কপথে রওনা হন বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের উদ্দেশ্যে। সেখানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া আসনের মানুষের কাছে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরাই তাঁর এই ঝটিকা সফরের মূল লক্ষ্য।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার-২) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এবং দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, আমিরের এই সফর উপকূলীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
উন্নয়ন রোডম্যাপ: মহেশখালীর গভীর সমুদ্র বন্দর এবং জ্বালানি হাবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের বিশেষ পরিকল্পনা।
কুতুবদিয়া রক্ষা বাঁধ: ভাঙন কবলিত কুতুবদিয়া রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ: দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক।
মহেশখালীর জনসভা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন জামায়াত আমির। এরপর বেলা ১:৩০ - ২:০০: কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন।
বিকেল: কক্সবাজারের কর্মসূচি শেষ করে তিনি হেলিকপ্টারে চড়েই রওনা হবেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আয়োজিত পরবর্তী জনসভার উদ্দেশ্যে।
দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী ও পর্যটন শহর কক্সবাজারে জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জনসভাস্থলগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই সফর মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
সাগরের ঢেউয়ের মতোই জামায়াত আমিরের এই ঝটিকা সফর উপকূলীয় জনপদে এক বিশাল রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভোটারদের দ্বারে পৌঁছাতে আকাশপথকে বেছে নেওয়া এই শীর্ষ নেতার বার্তা এখন কতটুকু ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
এএন