নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অন্তিম দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক বিশাল জনসভায় রাজপথ কাঁপালেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার দুপুরে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে দলের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করতে হবে। কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়েই তবে আপনারা ঘরে ফিরবেন।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি একে ‘অন্ধকার গলিপথ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে যখন অপরাধ লুকানোর চেষ্টা হয়েছিল, তখনও ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আবার কার ইশারায় ইসি ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ও রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে? জুলাইয়ের সেই অপকর্ম যেমন জনগণ মানেনি, আজকেও মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
এই প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সুরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা না হলে কাল থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভন্ডুলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
সমাবেশে জামায়াত আমির দাবি করেন, একটি পক্ষ নিশ্চিত পরাজয় জেনে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা এখন চোরাই পথে নির্বাচন ‘হাইজ্যাক’ করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, শুনতে পাচ্ছি অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে, গুন্ডাদের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়েনি। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের দুঃস্বপ্ন দেখবেন না।
তিনি আমলা ও সচিবদের সতর্ক করে বলেন, “কিছু অসৎ আমলা এখনো দলবাজি করে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করছেন। আপনাদের কে এই দায়িত্ব দিয়েছে? অতীতে ক্ষমা পেয়েছেন, কিন্তু আগামীতে আর কোনো ক্ষমা নেই।”
ঢাকা-১৩ আসনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এই এলাকাটি বর্তমানে মাদক ব্যবসা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং মামলা বাণিজ্যে জর্জরিত। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার তরুণদের বিপথগামী করে অস্ত্রবাজিতে নামানো হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জয়ী হলে এই সন্তানদের সংশোধন করে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিজয়ের জন্য নির্বাচনে নামেনি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সরকার কায়েম করা হবে। ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন রাখা হবে না। রাষ্ট্র হবে ইনসাফ ও সমতার। ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা যেভাবে জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে দাঁড়িয়েছে, ১২ তারিখ সারা দেশ সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখবে।
ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক ‘রিকশা’। এই প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি বিজয়ী হলে কেবল এই আসনের প্রতিনিধি হবেন না, তিনি হবেন সারা দেশের মানুষের একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী। তিনি সংসদে গিয়ে আলেম-ওলামা এবং ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মাহফুজুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। বক্তারা সকলে একযোগে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
এএন