আমার সংবাদ ডেস্ক
এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি দল বিএনপি সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার অপকৌশল নিয়েছে।
শুক্রবার রাতে সংসদ অধিবেশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা আজ সরাসরি বলেছি যে আপনারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। আপনাদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যদের মতামত ছাড়াই সরকারি দলের সদস্যরা নিজেদের মতো করে রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার প্রতিটি অধ্যাদেশ আলোচনার আশ্বাস দিলেও শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোকে তামাদি বা ল্যাপস হওয়ার তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে তিনি বলেন, এই বিলে সবার ঐকমত্য থাকলেও হঠাৎ করে সরকারি দলের এক সদস্যের মাধ্যমে তিনটি বিতর্কিত সংশোধনী আনা হয়েছে। বিরোধী দলকে এই সংশোধনীগুলো পড়ার বা জানার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, জাদুঘর পরিচালনায় সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই তড়িঘড়ি করে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিল, পুলিশ সংস্কার কমিশন বিল এবং গুম কমিশন বিলের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন সংসদে আনা হলো না? তিনি দাবি করেন, সরকার শুধু সেই বিলগুলোই আনছে যা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ফ্যাসিজম বহাল রাখতে সহায়ক। এমনকি স্থানীয় সরকার বিলের ক্ষেত্রেও বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারি দলের প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে নির্বাচনের ফলাফল আগেই লন্ডনে নির্ধারিত ছিল। তিনি একে জাতির সাথে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি ঘোষণা দেন যে, জনগণের অধিকার রক্ষায় জামায়াত কোনো আপস করবে না এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেএইচআর