আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১১, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ঋণের গতানুগতিক বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের’ চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম বাজেট দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তার ভাষ্য, এতে কাঙ্ক্ষিত নীতিগত সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট প্রস্তাব নেই এবং এটি মূলত একটি গতানুগতিক বাজেট। একই সঙ্গে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মোট বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, অনুৎপাদনশীল খাতে উচ্চ ব্যয় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তারেক রহমান সরকারের প্রথম সংসদীয় বাজেট।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ঘোষিত এ বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামায়াতের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেট সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
এম জি