ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৩:১৪ পিএম

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান

মানবজীবনের শুরু যেমন এক অলৌকিক রহস্য, তেমনি এর শেষও রহস্যে ঘেরা। মৃত্যু দিয়ে শেষ হয়ে যায় দেহের ক্রিয়াকলাপ, কিন্তু আত্মার যাত্রা তখনই শুরু হয় এক নতুন পরিমণ্ডলে বরযখে। মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা আবার জীবিত হবে, বিচার হবে তার কর্মের এই বিশ্বাসকেই বলা হয় পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান বা ঈমান বিল আখিরাত। 

ইসলামি বিশ্বাসব্যবস্থার ছয়টি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে এটি একটি অপরিহার্য স্তম্ভ।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বহুবার আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা যে মাটিতে ছড়িয়ে আছ, আমি সেই মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতে তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং পুনরায় তোমাদের সেখান থেকে বের করব।’— (সূরা ত্বাহা, আয়াত ৫৫)

এই আয়াত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, মৃত্যু কোনো শেষ নয়, বরং এটি এক নতুন জীবনের দ্বার। যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তার ঈমান অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 
নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, পরকাল ও তাকদিরে (ভালো ও মন্দে) বিশ্বাস রাখে, সে প্রকৃত মুমিন।— (সহিহ মুসলিম)

অতএব, পুনরুত্থানে বিশ্বাস কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিশ্বাসের মূল সত্তা, যা মানুষকে সৎপথে রাখে, জবাবদিহিতার চেতনা জাগায় এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিতকে দৃঢ় করে।

মানুষ যদি মনে করে মৃত্যু মানেই সব শেষ, তবে ন্যায়–অন্যায়, পাপ–পুণ্যের কোনো মূল্য থাকে না। সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যদি মানুষ জানে তার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে একদিন তবে সে সঠিক পথে চলার প্রেরণা পায়।

আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস তাই নৈতিক শুদ্ধতার ভিত্তি। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।— (সূরা কাহফ, আয়াত ১১০)

এখানে, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বলতে বোঝানো হয়েছে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের পর বিচার। এই সাক্ষাতের বিশ্বাস মানুষকে সৎ কাজে উদ্বুদ্ধ করে এবং পাপ থেকে দূরে রাখে।

কোরআনে পুনরুত্থানকে শুধু বিশ্বাসের বিষয় হিসেবে নয়, যুক্তি দিয়েও উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, সে কি দেখে না, আমি তাকে এক বিন্দু বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি, আর এখন সে প্রকাশ্য বিতার্কিক?— (সূরা ইয়াসিন, আয়াত ৭৭)

এখানে আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে সৃষ্টিই অসম্ভব ছিল না, তাকে আবার সৃষ্টি করা কেন অসম্ভব হবে? প্রকৃতিও আমাদের শেখায়, মৃত্যুর পর জীবনের পুনরাবৃত্তি সম্ভব। শুকনো মাটিতে বৃষ্টি পড়লে যেমন সবুজ ঘাস জন্ম নেয়, তেমনি আল্লাহ মৃতদেরও পুনরুজ্জীবিত করবেন  তুমি দেখো, ভূমি মৃত; আমি যখন তার ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সজীব হয়ে ওঠে। নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেন, তিনি মৃতদেরও জীবিত করবেন।— (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৩৯)

এটি প্রকৃতির মাধ্যমে পুনরুত্থানের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।

আখিরাতের বিশ্বাস কেবল তাত্ত্বিক নয়; কোরআন ও হাদিসে কিয়ামতের দিনের বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। তখন মহাবিশ্বের সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, শিং ফুঁকবে ইসরাফিল (আ.)। পৃথিবীর বুকে কোনো প্রাণ থাকবে না। এরপর দ্বিতীয়বার শিং ফুঁকার সঙ্গে সঙ্গে সবাই পুনরায় জীবিত হয়ে উঠবে।

আল্লাহ বলেন, এবং শিং ফুঁক দেওয়া হবে, তখন হঠাৎই তারা কবর থেকে উঠে পড়বে তাদের রবের দিকে।— (সূরা ইয়াসিন, আয়াত ৫১)

তখন মানুষ নগ্ন, অসহায় অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। সবাই আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, বই খুলে দেওয়া হবে, প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে। কেউ অল্পতম ভালো কাজ করলে তা দেখবে, কেউ অল্পতম মন্দ কাজ করলে তাও দেখবে।— (সূরা যিলযাল, আয়াত ৭–৮)

পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। সে জানে, কোনো কাজই গোপন থাকে না। একজন কর্মচারী যদি জানে, তার কাজের প্রতিদিন হিসাব হবে, সে কখনোই অনিয়ম করবে না। তেমনি একজন মুমিন যখন জানে, আল্লাহর কাছে প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে, তখন সে অন্যায় থেকে বিরত থাকে।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে হিসাবের মুখোমুখি করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।— (তিরমিজি)

এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় আখিরাতে জবাবদিহিতা আমাদের আজকের জীবনকে পরিশুদ্ধ রাখার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেরণা।

প্রাচীন আরব সমাজে অনেকেই বলত, যখন আমরা ধুলায় পরিণত হব, তখন কি আবার জীবিত হব? কোরআনে আল্লাহ এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, বলো, তোমাদের সৃষ্টি করেছেন যিনি, তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন; তিনি আবারও তা করতে সক্ষম।— (সূরা ইয়াসিন, আয়াত ৭৯)

এটি গভীর দার্শনিক উত্তর যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করতে পেরেছেন, তাঁর পক্ষে পুনরায় সৃষ্টি করা তো আরো সহজ। আধুনিক বিজ্ঞানও আজ প্রমাণ করছে মানবদেহের কোষ, ডিএনএ, এমনকি জিনগত তথ্যও ধ্বংস হয় না সম্পূর্ণভাবে; অর্থাৎ পুনঃসৃষ্টির সম্ভাবনা পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও অস্বীকারযোগ্য নয়।

কিয়ামতের পর মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে এক দল জান্নাতে, অন্য দল জাহান্নামে। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারা অনন্ত সুখে থাকবে; আর যারা অবিশ্বাস করেছে, অন্যায় করেছে, তারা অনন্ত যন্ত্রণায় থাকবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সামান্য পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তার ফল দেখবে; আর যে মন্দ কাজ করে, সেও তার ফল দেখবে।— (সূরা যিলযাল, আয়াত ৭–৮)

এই আয়াত আমাদের শেখায় আখিরাতের বিচারব্যবস্থা হবে পরিপূর্ণ ন্যায়ের উপর। সেখানে কারও প্রতি সামান্যতম অবিচার হবে না।

যে ব্যক্তি পুনরুত্থানে বিশ্বাস রাখে, সে জীবনে উদ্দেশ্য খুঁজে পায়। সে জানে, জীবন ক্ষণস্থায়ী; তাই সে সময় নষ্ট করে না। অন্যের প্রতি অন্যায় করতে ভয় পায়, কারণ সে জানে—একদিন সব হিসাব দিতে হবে। আখিরাতের এই চেতনা তাকে বিনয়ী, ন্যায়পরায়ণ ও আত্মনিয়ন্ত্রিত করে।

এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনকে ভয় করে, তার জন্য থাকবে দুটি জান্নাত। — (সূরা রহমান, আয়াত ৪৬)

বর্তমান বস্তুবাদী যুগে মানুষ আখিরাতের চিন্তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থ, পদ, ভোগবিলাসের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে—সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যু অনিবার্য, এবং এর পরই শুরু হবে এক অনন্ত জীবন। যদি আখিরাতে বিশ্বাসের চেতনা সমাজে দৃঢ় হতো, তবে দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, শোষণ, প্রতারণা এভাবে বেড়ে উঠত না।

পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান মানুষকে আত্মসচেতন, সমাজকে ন্যায়ভিত্তিক করে তোলে। এটি কেবল ধর্মীয় ধারণা নয়, মানবতার নৈতিক ভিত্তি। মৃত্যু আমাদের জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এক চিরন্তন যাত্রার সূচনা।

তাই প্রতিটি মানুষকে এখন থেকেই নিজের আমল পর্যালোচনা করতে হবে, পাপ থেকে তওবা করে নেক আমলে জীবন সাজাতে হবে। কারণ একদিন আমাদের সবাইকে উঠতে হবে সেই মহান দিনে—যেদিন আল্লাহ নিজেই বলবেন, আজ রাজত্ব কার? একমাত্র আল্লাহ, মহান, পরাক্রমশালী।— (সূরা মুমিন, আয়াত ১৬)

সেদিন যেন আমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি এই হোক আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

ইএইচ

Link copied!