ফেনী প্রতিনিধি
জুন ৫, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
সময় বদলায়, বদলে যায় চারপাশের চিত্রও। কিছু পরিবর্তন উদ্বেগ বাড়ায়, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন। আবার কিছু পরিবর্তন মানুষের মনে জাগায় স্বস্তি ও আশার সঞ্চার। ফেনীর একটি গ্রামের সড়কের পরিবর্তন এখন এমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প।
ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদ সড়কটি পাঁচ বছর আগেও ছিল সবুজশূন্য ও নির্জীব। বর্তমানে সড়কটির দুই পাশে সারি সারি গাছ ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে। পথচারীদের কাছে এটি এখন একটি দৃষ্টিনন্দন সবুজ পথ। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন শিক্ষক, লেখক, সামাজিক সংগঠক ও পরিবেশকর্মী নজরুল বিন মাহমুদুল।
২০২১ সালে ‘পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’-এর উদ্যোগে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সড়কটির পাশে ২৫০টি দেবদারু গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফেনীর সাবেক জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ ছিল না। গাছ লাগানোর সময় এলাকায় বৃষ্টির অভাব ছিল। ফলে প্রায় এক মাস ধরে প্রতিদিন সকাল-বিকেল গাছে পানি দিতে হয়েছে। সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গাছে পানি দিতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত। শুরু থেকে অধিকাংশ পরিচর্যার দায়িত্ব নিজেই পালন করেন নজরুল বিন মাহমুদুল।
তিনি জানান, গাছ লাগানোর সময় নানা সমালোচনা ও নিরুৎসাহমূলক মন্তব্য শুনতে হলেও তিনি থেমে যাননি। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ এগিয়ে এসে পরিচর্যার কাজে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নজরুল বিন মাহমুদুল শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ও জনপ্রিয়।
শুধু এই সড়কেই নয়, ফেনীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, বাড়ির আঙিনা এবং সড়কে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার কাজ করেছেন তিনি। তরুণদের পরিবেশ সচেতন করতে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যরা ফেনীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কাজ করছেন।
সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন। বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘শ্রেষ্ঠ পরিবেশ বন্ধু পদক’। এছাড়া যুব নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য ফেনী জেলার ‘শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক’ নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় যুব পুরস্কারের ‘শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক’ বিভাগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হন তিনি।
লেখালেখিতেও রয়েছে তার পরিচিতি। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা নিয়ে লেখা তার বই ‘চব্বিশের বন্যা’ পাঠকমহলে প্রশংসা অর্জন করেছে।
নজরুল বিন মাহমুদুল বলেন, যেকোনো ভালো কাজের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আমার কাজ অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এক সময়ের নির্জীব ও ধুলোময় সড়ক আজ সবুজ ছায়ায় আচ্ছাদিত। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে, একজন মানুষের আন্তরিক উদ্যোগও একটি জনপদের চেহারা বদলে দিতে পারে।
এম জি