ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

কালেমায়ে তাওহীদ: ঈমানের প্রথম ও মৌলিক ভিত্তি

হাশেম রেজা

হাশেম রেজা

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১১:১৩ এএম

কালেমায়ে তাওহীদ: ঈমানের প্রথম ও মৌলিক ভিত্তি

মানুষের জীবনের লক্ষ্য কেবল দুনিয়ার ভোগবিলাস নয়, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ইসলামের সমগ্র দাওয়াতের মূলভিত্তি হচ্ছে 'তাওহীদ' অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করা ও তাঁরই একক কর্তৃত্ব স্বীকার করা। এই তাওহীদের ঘোষণা সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে একটি কালেমায়, যাকে বলা হয় 'কালেমায়ে তাওহীদ'।

কালেমায়ে তাওহীদের অর্থ আরবি বাক্যটি হলো:  لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللّٰهِ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) এর বাংলা অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।

এই সংক্ষিপ্ত বাক্যেই নিহিত রয়েছে সমগ্র ইসলামের মূল দর্শন। প্রথম অংশে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ঘোষণা করা হয়েছে এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, এটাই তাওহীদের ঘোষণা। দ্বিতীয় অংশে (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) বলা হয়েছে, নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এটাই রিসালাত বা নবুওতের স্বীকৃতি।

তাওহীদের প্রকৃত অর্থ, 'তাওহীদ' শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ ‘ওয়াহ্‌হাদা’ থেকে, যার অর্থ এক করা বা একত্ব ঘোষণা করা। ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালাকে সত্তা, গুণ, উপাসনা ও বিধান প্রণয়নে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করা।

তাওহীদের তিনটি মৌলিক দিক রয়েছে-

১. তাওহীদ রুবুবিয়্যাহ: আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও নিয়ন্ত্রক—এ বিশ্বাস রাখা।

২. তাওহীদ উলুহিয়্যাহ: উপাসনা, প্রার্থনা, দোয়া, কোরবানি, সাহায্য প্রার্থনা—এসব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত হবে।

৩. তাওহীদ আসমা ও সিফাত: আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে কোনো অংশীদার নেই, তিনি যেমন বলেছেন, তেমনি বিশ্বাস করতে হবে।

এই তিন দিক মিলেই গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ তাওহীদ।

১. এটি ঈমানের সূচনা: যে ব্যক্তি হৃদয়ে বিশ্বাস ও মুখে উচ্চারণ করে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সে ইসলামের পরিধিতে প্রবেশ করে। এই কালেমা হলো ইসলামের দরজা। নবী করিম (সা.) বলেছেন,  যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারি, মুসলিম)

২. এটি মুক্তির চাবিকাঠি: এই কালেমা মানুষকে শিরক, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে। মানুষকে শেখায় যে, জীবনের মালিক একমাত্র আল্লাহ, তাঁরই হাতে আমাদের সুখ-দুঃখ, জীবন-মৃত্যু ও ভাগ্য নির্ধারণ।

৩. এটি আত্মসমর্পণের প্রতীক: কালেমা উচ্চারণ মানে শুধু মুখে বলা নয়, বরং হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ও কর্মে বাস্তবায়ন করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করে, তার জীবন পরিচালিত হয় আল্লাহর বিধান অনুযায়ী।

তাওহীদ ও মানবমুক্তি: তাওহীদের দাওয়াত মানুষকে মুক্ত করে সব ধরনের দাসত্ব থেকে। পৃথিবীতে যত ধরনের অন্যায়, জুলুম ও বিভাজন দেখা যায়, তার মূল কারণ হলো আল্লাহর একত্বের অস্বীকৃতি। যখন মানুষ মনে করে, কোনো শাসক, নেতা বা শক্তিই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে, তখনই সে অন্যায়ের পথে চলে যায়।

তাওহীদ মানুষকে শেখায়, কোনো মানুষ, ক্ষমতা বা বস্তুর নয়; কেবল আল্লাহরই সামনে মাথা নত কর।

এই বিশ্বাসই মানুষকে দেয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও আত্মসম্মান। ইতিহাস সাক্ষী, তাওহীদের দাওয়াতই দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছে, নারীকে মর্যাদা দিয়েছে এবং সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে।

আদম (আ.) থেকে শুরু করে নূহ (আ.), ইব্রাহিম (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.) এবং সর্বশেষ মুহাম্মদ (সা.) সহ সব নবীর দাওয়াতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটিই, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ করো না। (সূরা হুদ, আয়াত: ২)

নবী করিম (সা.) এর ২৩ বছরের নবুওতের মূল আহ্বানও ছিল এই তাওহীদ প্রতিষ্ঠা। মক্কার মুশরিকরা নামাজ, রোজা বা কোরবানি নিয়ে আপত্তি করেনি, কিন্তু তাওহীদের ঘোষণায় আপত্তি করেছিল, কারণ এই কালেমা তাদের মিথ্যা দেবদেবী, অহংকার ও ক্ষমতার মূর্তি ভেঙে দেয়।

তাওহীদ কেবল বিশ্বাসের বিষয় নয়, এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

ব্যক্তিগত জীবনে, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস মানুষকে বিনয়ী, ধৈর্যশীল ও ন্যায়পরায়ণ করে তোলে। সে জানে-সবকিছুর বিচার হবে আল্লাহর কাছে।

পরিবারে: তাওহীদভিত্তিক পরিবারে থাকবে আল্লাহভীতি, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।

সমাজে: তাওহীদ মানুষকে শেখায় ন্যায়, সহানুভূতি ও সহযোগিতা—কারণ সবাই একই সৃষ্টিকর্তার বান্দা।

রাষ্ট্রে: তাওহীদভিত্তিক সমাজে শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়নিষ্ঠ ও জবাবদিহিতামূলক।

যদি তাওহীদ হয় আল্লাহকে এক বলা, তবে শিরক হলো আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা। ইসলাম শিরককে সবচেয়ে বড় গুনাহ বলে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরককে ক্ষমা করবেন না, এর বাইরে যা কিছু আছে, তিনি যাকে' ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। (সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮)

শিরক শুধু মূর্তিপূজা নয়; যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের ভয় করে, কারো কাছে অজুহাত খোঁজে বা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের বিধান মানে, সেও শিরকের ঝুঁকিতে পড়ে।

কালেমা শুধু উচ্চারণ করলে যথেষ্ট নয়, বরং তা অনুযায়ী জীবনযাপন করাই আসল ঈমান। নবী (সা.) বলেছেন, কালেমা বলার পর কেউ যদি তার দাবি অনুযায়ী কাজ না করে, তবে সে মুনাফিক।

অতএব, কালেমার দাবিই হলো: আল্লাহর আদেশ মেনে চলা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠন করা।

আজ মানুষ বিভক্ত জাতি, গোষ্ঠী ও স্বার্থে। কেউ জাতীয়তাবাদে, কেউ ভোগবাদে, কেউ আবার ক্ষমতার মোহে আল্লাহকে ভুলে গেছে। সমাজে দুর্নীতি, অসততা ও অন্যায় বেড়েই চলেছে।

এই অবস্থায় তাওহীদের আহ্বানই পারে মানুষকে পুনরায় এক করতে। আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসই মানুষকে শেখায় যে, আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা-সুতরাং কেউ কারও ঊর্ধ্বে নয়, কেউ কারও দাস নয়।

'কালেমায়ে তাওহীদ' শুধু একটি বাক্য নয়, এটি জীবনবিপ্লবের ঘোষণা। এটি মানুষকে মুক্ত করে সকল ভয়, কুসংস্কার ও দাসত্ব থেকে। এই কালেমাই নবী-রাসূলদের মিশনের ভিত্তি এবং মুসলমানদের অস্তিত্বের প্রতীক।

যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে এই কালেমার অর্থ বুঝে জীবন পরিচালনা করে, তার জীবন হয় আলোকিত, তার সমাজ হয় ন্যায়ভিত্তিক, আর তার পরিণাম হয় জান্নাত।

সুতরাং জেনে রাখ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, এবং তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। (সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯)

জেএইচআর

Link copied!