ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

শবে মিরাজ, ইবাদতের নিয়ম ও নিয়ত, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে করণীয়

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

শবে মিরাজ, ইবাদতের নিয়ম ও নিয়ত, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে করণীয়

ইসলামের ইতিহাসে শবে মিরাজ এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। এই পবিত্র রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তায়ালার বিশেষ কুদরতে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে সপ্তাকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। এই মহিমান্বিত সফর, মিরাজ, মুমিনদের জন্য ঈমানি শক্তি, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল অধ্যায়। শবে মিরাজ উপলক্ষে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত, বন্দেগির আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমারেখা জানা ও অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

শবে মিরাজ ইসলামের মৌলিক ইবাদত নামাজের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই রাতেই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ উম্মতের ওপর ফরজ হয়। তাই শবে মিরাজ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি নামাজের গুরুত্ব ও আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রমাণ।

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে শবে মিরাজ উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা নির্ধারিত রাকাতবিশিষ্ট নামাজ প্রমাণিত নয়। কোরআন ও সহিহ হাদিসে শবে মিরাজের জন্য আলাদা কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদতের নির্দেশনা নেই। তাই এ রাতে ইবাদত করতে গিয়ে মনগড়া বা ভিত্তিহীন আমল থেকে বিরত থাকা জরুরি।

তবে এটি একটি ফজিলতপূর্ণ রাত, এই উপলব্ধি থেকে নফল ইবাদত, তওবা, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও প্রশংসনীয়।

শবে মিরাজে ইবাদত করতে চাইলে নিম্নোক্ত সাধারণ নীতিগুলো অনুসরণ করা উত্তম:

নফল নামাজ আদায়: এই রাতে দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করা যায়। যত রাকাত ইচ্ছা পড়া যায়, তবে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করা শরিয়তসম্মত নয়।

কোরআন তিলাওয়াত: অর্থ ও ভাবার্থ বুঝে কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি আত্মশুদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।

জিকির ও দরুদ পাঠ: তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির ও দরুদ শরিফ পাঠ করা এই রাতে বিশেষ সওয়াবের কারণ।

তওবা ও ইস্তিগফার: নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে দূরে থাকার সংকল্প করা এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

দোয়া: নিজের, পরিবার, সমাজ ও সমগ্র উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা উত্তম।

শবে মিরাজে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তার নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই: অজু করে পবিত্রতা অর্জন। কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো। মনে মনে নিয়ত করা। তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু। সানা, সুরা ফাতিহা ও কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত। রুকু, সিজদা আদায়। তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম। এই পদ্ধতিতে দুই রাকাত করে একাধিক নফল নামাজ পড়া যায়। নিয়ত ইবাদতের মূল ভিত্তি। নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়, মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়।

শবে মিরাজের নফল নামাজের নিয়ত হতে পারে, আমি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নফল নামাজ আদায় করছি।

দোয়া, জিকির বা কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও অন্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সংকল্প থাকলেই নিয়ত পূর্ণ হয়।

অনেক সময় শবে মিরাজ উপলক্ষে নির্দিষ্ট রাকাতের নামাজ, বিশেষ সূরা দিয়ে নির্ধারিত আমল বা বিশেষ পদ্ধতির কথা প্রচার করা হয়, যার সহিহ দলিল নেই। এ ধরনের ভিত্তিহীন আমল থেকে বিরত থাকাই উত্তম। ইবাদতে অতিরঞ্জন নয়, বরং সুন্নাহসম্মত আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।

শবে মিরাজ আমাদের শেখায়, নামাজ হলো মুমিনের মিরাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়। তাই শবে মিরাজের প্রকৃত শিক্ষা হলো নামাজে যত্নবান হওয়া এবং তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করা।

এই রাত আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির জন্য উপযুক্ত। শবে মিরাজ আমাদের অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার থেকে ফিরে এসে ন্যায়, সততা ও আল্লাহভীতির পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।

শবে মিরাজ এক মহিমান্বিত স্মৃতিবাহী রজনী। এ রাতে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত না থাকলেও নফল নামাজ, দোয়া, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। শরিয়তের সীমারেখা মেনে, সুন্নাহভিত্তিক আমলের মাধ্যমে শবে মিরাজ পালনই একজন সচেতন মুসলমানের পরিচয়। এই রাত আমাদের নামাজে যত্নবান হওয়া, আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং আল্লাহমুখী জীবন গঠনের শপথ নিতে শেখায়।

জেএইচআর

Link copied!