ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

যেসব আমল করলে আল্লাহ তাআলা খুশি হন

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম

যেসব আমল করলে আল্লাহ তাআলা খুশি হন

মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা। দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী মুক্তি ও জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়। 

কুরআন ও হাদিসে এমন বহু আমলের কথা উল্লেখ আছে, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর অত্যন্ত খুশি হন। একজন মুমিনের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেসব আমল বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।

আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিশুদ্ধ ঈমান ও তাওহিদে অবিচল থাকা। আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা হলো ইসলামের মূল শিক্ষা। কুরআনে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না (সূরা নিসা, ৪৮)। যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেয়, তাঁর ওপর ভরসা করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করে, তার এই ঈমান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এরপরই গুরুত্ব আসে সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ওপর। 

নামাজ হলো মুমিনের জীবনের প্রধান স্তম্ভ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সময়মতো নামাজ আদায় করা (সহিহ বুখারি)। নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। খুশু খুজু সহকারে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ এবং তাঁদের প্রতি সদাচরণ আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা নিজের ইবাদতের পরপরই তাঁদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তোমার পিতা-মাতার (সূরা লুকমান, ১৪)। পিতা-মাতার সেবা করা ও দুঃখে কষ্টে পাশে থাকা ইবাদতের অংশ। পাশাপাশি হালাল উপার্জন ও হারাম থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। হালাল রুজি উপার্জন করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, অন্যদিকে ঘুষ, সুদ ও প্রতারণা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। এছাড়া বেশি বেশি জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে অন্তর প্রশান্ত হয়। আল্লাহ বলেন, সাবধান, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে (সূরা রা‘দ, ২৮)। নিয়মিত তসবিহ, তাহমিদ ও দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর সন্তুষ্ট হন।

সত্যবাদিতা ও আমানতদারি মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আল আমিন বা বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি। সমাজে সত্যবাদিতা প্রতিষ্ঠা হলে শান্তি ও আস্থা তৈরি হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির বড় মাধ্যম। এছাড়া মানুষের উপকার করা ও দয়া প্রদর্শন করাকেও ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। 

গরিবকে সাহায্য ও ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ। ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা মুমিনের বড় গুণ। সুখে কৃতজ্ঞতা ও দুঃখে ধৈর্য ধরলে আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, তাই ভুলের পর অনুতপ্ত হয়ে তাওবা ও আত্মশুদ্ধি করা প্রয়োজন। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তাওবা করে, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই নেই। সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আখলাক বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল হবে উত্তম চরিত্র।

আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন কোনো কঠিন বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আমলের মধ্যেই নিহিত। বিশুদ্ধ ঈমান, নামাজ, সততা, দয়া, ধৈর্য ও সুন্দর চরিত্র এসব গুণ যদি আমরা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আমাদের প্রতি খুশি হবেন। আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

ইএইচ

Link copied!