ধর্ম ডেস্ক
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের সাহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
শনিবার প্রকাশিত এই সময়সূচিতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে রোজাদারদের জন্য সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সম্ভাব্য প্রথম রোজা ধরে এই ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছে। সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের সুবিধার্থে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে এবারের প্রকাশনায় রয়েছে একটি বিশেষত্ব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
বিগত বছরগুলোতে ঢাকার সময়ের সাথে মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য জেলার সময় বের করতে হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। এবার সেই জটিলতা দূর করতে দেশের ৬৪টি জেলার জন্য পৃথক পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি সম্ভাব্য প্রথম রমজান। ঢাকার আকাশ ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রথম রোজার সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং প্রথম রোজার ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। তবে সময়সূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সাহরির শেষ সময় মানেই ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডারে সাহরির শেষ সময় ৫টা ১২ মিনিট হলেও ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৫টা ১৫ মিনিটে। অর্থাৎ সাহরি ও ফজরের মাঝখানে ৩ মিনিটের একটি সতর্কতামূলক ব্যবধান রাখা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক কারণে পূর্ব এবং পশ্চিম প্রান্তের জেলাগুলোর মধ্যে সময়ের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। অনেক সময় হিসাবের ভুলে রোজাদাররা ভুল সময়ে সাহরি বা ইফতার করে ফেলতেন। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং মানুষের বিভ্রান্তি কমাতে এবার প্রতি জেলার জন্য আলাদা ছক তৈরি করা হয়েছে।
সাহরির সময়টি জেলার পূর্ব প্রান্তের সময় অনুযায়ী এবং ফজরের আজান ও ইফতারের সময়টি জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময় অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই সময়ের অপচয় বা অমর্যাদা না হয়। এবারের রমজানে দিন বাড়ার সাথে সাথে সাহরির সময় এগিয়ে আসবে এবং ইফতারের সময় পিছিয়ে যাবে। ঢাকার আংশিক সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১২ ও ইফতার সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। ১০ম রোজা ২৮ ফেব্রুয়ারি সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ০৫ ও ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিট। ২০তম রোজা ১০ মার্চ সাহরির শেষ সময় ভোর ৪টা ৫৭ ও ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট এবং ৩০তম রোজা ২০ মার্চ সাহরির শেষ সময় ভোর ৪টা ৪৭ ও ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ১ দিন কম বা বেশি হতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শাবান মাস থেকেই মুমিন বান্দাদের রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। শাবান মাসের ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে রমজানের কঠিন সিয়াম সাধনা সহজ হয়। বিশেষ করে সাহরি ও ইফতারের এই সময়সূচিটি সংগ্রহে রাখা এবং সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রতিটি রোজাদারের দায়িত্ব।
সারা দেশের মানুষ এখন থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের জেলার নাম দিয়ে সার্চ করলেই নির্দিষ্ট সময়সূচি পেয়ে যাবেন। স্মার্টফোনের যুগে এই ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষের ইবাদতকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি
রোজা তারিখ সাহরির শেষ সময় ফজর শুরু ইফতারের সময়
০১ ১৯ ফেব্রুয়ারি ৫:১২ ৫:১৫ ৫:৫৮
০২ ২০ ফেব্রুয়ারি ৫:১১ ৫:১৪ ৫:৫৮
০৩ ২১ ফেব্রুয়ারি ৫:১১ ৫:১৪ ৫:৫৯
০৪ ২২ ফেব্রুয়ারি ৫:১০ ৫:১৩ ৫:৫৯
০৫ ২৩ ফেব্রুয়ারি ৫:০৯ ৫:১২ ৬:০০
০৬ ২৪ ফেব্রুয়ারি ৫:০৮ ৫:১১ ৬:০০
০৭ ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫:০৮ ৫:১১ ৬:০১
০৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি ৫:০৭ ৫:১০ ৬:০১
০৯ ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫:০৬ ৫:০৯ ৬:০২
১০ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫:০৫ ৫:০৮ ৬:০২
১১ ০১ মার্চ ৫:০৫ ৫:০৮ ৬:০৩
১২ ০২ মার্চ ৫:০৪ ৫:০৭ ৬:০৩
১৩ ০৩ মার্চ ৫:০৩ ৫:০৬ ৬:০৪
১৪ ০৪ মার্চ ৫:০২ ৫:০৫ ৬:০৪
১৫ ০৫ মার্চ ৫:০১ ৫:০৪ ৬:০৫
১৬ ০৬ মার্চ ৫:০০ ৫:০৩ ৬:০৫
১৭ ০৭ মার্চ ৪:৫৯ ৫:০২ ৬:০৬
১৮ ০৮ মার্চ ৪:৫৮ ৫:০১ ৬:০৬
১৯ ০৯ মার্চ ৪:৫৭ ৫:০০ ৬:০৭
২০ ১০ মার্চ ৪:৫৭ ৪:৫৯ ৬:০৭
২১ ১১ মার্চ ৪:৫৬ ৪:৫৮ ৬:০৭
২২ ১২ মার্চ ৪:৫৫ ৪:৫৭ ৬:০৮
২৩ ১৩ মার্চ ৪:৫৪ ৪:৫৭ ৬:০৮
২৪ ১৪ মার্চ ৪:৫৩ ৪:৫৬ ৬:০৯
২৫ ১৫ মার্চ ৪:৫২ ৪:৫৫ ৬:০৯
২৬ ১৬ মার্চ ৪:৫১ ৪:৫৪ ৬:১০
২৭ ১৭ মার্চ ৪:৫০ ৪:৫৩ ৬:১০
২৮ ১৮ মার্চ ৪:৪৯ ৪:৫২ ৬:১০
২৯ ১৯ মার্চ ৪:৪৮ ৪:৫০ ৬:১১
৩০ ২০ মার্চ ৪:৪৭
ইএইচ