আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২০, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
কোরবানিকে ঘিরে প্রতিবছর মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো-জবাইকারী, কসাই বা কোরবানির কাজে সহযোগিতাকারীদের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত কিংবা চামড়া দেওয়া শরিয়তসম্মত কি না।
অনেকেই প্রচলিত রীতির কারণে কসাইয়ের মজুরি হিসেবে কোরবানির গোশত বা চামড়া দিয়ে থাকেন। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ফিকহবিদ ও ইসলামি গবেষকদের মতে, কোরবানির গোশত বা চামড়া পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। তবে আলাদা করে পারিশ্রমিক পরিশোধ করার পর সৌজন্য বা হাদিয়া হিসেবে গোশত দেওয়া বৈধ।
ইসলামি গবেষণা সাময়িকী মাসিক আল কাউসার-এ উল্লেখ করা হয়েছে, কোরবানির পশুর গোশত বিক্রি করা বা বিনিময়মূল্য হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। একই কারণে জবাইকারী, কসাই বা অন্য সহযোগীকে পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত বা চামড়া দেওয়া বৈধ হবে না।
এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে কোরবানির উটের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেন এবং নির্দেশ দেন যেন পশুর গোশত, চামড়া ও অন্যান্য সামগ্রী সদকা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোরবানির পশু থেকে কসাইয়ের পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে না; বরং তাদের মজুরি আলাদাভাবে প্রদান করতে হবে। (সহিহ মুসলিম: ১৩১৭)
রাজধানীর জামিয়া ইকরার-এর ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি গোশত বা চামড়া দিয়ে পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন, তাহলে কোরবানি আদায় হয়ে যাবে ঠিকই, তবে তা ত্রুটিমুক্ত থাকবে না। এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তার সমমূল্য গরিব-মিসকিনদের সদকা করে দিলে ত্রুটি দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, জবাইকারী বা কসাইকে নির্ধারিত মজুরি দেওয়ার পর অতিরিক্তভাবে হাদিয়া হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যেতে পারে। হাদিসে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা কেবল পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ফিকহের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থেও একই বক্তব্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে-আলমুহীতুল বুরহানী, বাদায়েউস সানায়ে, ফাতহুল বারী, আদ্দুররুল মুখতার এবং হাশিয়াতুশ শিলবী আলা তাবয়ীনিল হাকায়েক।
এম জি