আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২৩, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত ইবাদত নয়। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সম্পদশালী নারীর ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। কিন্তু সমাজে এখনো অনেকের ধারণা, পরিবারের পুরুষ সদস্য কোরবানি দিলেই নারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। অথচ শরিয়তের বিধান ভিন্ন কথা বলে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।”
-সুরা কাওসার, আয়াত : ২
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোনো নারী যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন-তিনি বিবাহিতা, অবিবাহিতা, চাকরিজীবী বা গৃহিণী যাই হোন না কেন-তাহলে তার ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও স্বাধীন মুসলিম নর-নারী যদি ১০ জিলহজের ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
-আদ দুররুল মুখতার, ৫/২১৯
সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর জাকাত ফরজ হওয়ার মতো সম্পদ রয়েছে, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব।
নিসাব পরিমাণ সম্পদ কী?
যার কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা রয়েছে, তিনি নিসাবের মালিক হিসেবে গণ্য হবেন। একইভাবে, কারও কাছে যদি নগদ অর্থ, অলংকার বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং সেগুলোর মোট মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমপরিমাণ বা তার বেশি হয়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
এমনও হতে পারে, কারও কাছে আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ বা অর্থ নেই। কিন্তু সামান্য স্বর্ণ, কিছু নগদ টাকা ও অন্যান্য অতিরিক্ত সম্পদের সম্মিলিত মূল্য নিসাবের সমান হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও কাছে এক ভরির কম স্বর্ণ এবং কিছু নগদ অর্থ রয়েছে। আলাদাভাবে কোনোটিই নিসাব পূরণ না করলেও একত্রে সেগুলোর মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্যের সমান বা বেশি হয়, তাহলে তিনি কোরবানির যোগ্য সম্পদের মালিক বলে বিবেচিত হবেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক পরিবারের ওপর প্রতি বছর একটি কোরবানি রয়েছে।”
-সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮৮
আরেক হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩
নারীদের জন্য বিশেষ সচেতনতা জরুরি
অনেক নারী স্বর্ণালংকার বা সঞ্চিত অর্থ থাকার পরও জানেন না যে তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। ফলে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত থেকে তারা বঞ্চিত হন।
অনেক পরিবারে কেবল পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়, অথচ নারীর নিজস্ব সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সঠিক নয়। কারণ, কোরবানি ব্যক্তিগত সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ইবাদত।
কোরবানির মূল শিক্ষা
কোরবানির উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই করা নয়; বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা প্রকাশ করা। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করেই মুসলমানরা এই ইবাদত পালন করেন।
তাই সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের উচিত শরিয়তের বিধান জেনে আন্তরিকতার সঙ্গে কোরবানি আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
এম জি