ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘন ঘন ভূমিকম্প বাড়াচ্ছে আতঙ্ক: এক সপ্তাহে চারবার কেঁপেছে দেশ

ইলিয়াস হোসাইন রিফাত, ঢাকা

ইলিয়াস হোসাইন রিফাত, ঢাকা

নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০২:২৬ পিএম

ঘন ঘন ভূমিকম্প বাড়াচ্ছে আতঙ্ক: এক সপ্তাহে চারবার কেঁপেছে দেশ

গত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ১০টা ৩৯ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী কম্পনের পর শনি আরও দুই দফা মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থল দেশের ভেতরেই, যার মধ্যে নরসিংদী ও রাজধানীর বাড্ডা এলাকাও রয়েছে। ঘন ঘন এই ভূকম্পন কি বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

চলতি সপ্তাহের শুক্রবার, ২১ নভেম্বর সকালে দেশবাসী প্রথম বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। এই কম্পনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানি এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে আরও দুবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার সকালে প্রথম মৃদু কম্পনটি অনুভূত হয় রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রা নিয়ে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ। একই দিন সন্ধ্যায় ১ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৪.৩। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এই দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়। পরপর চারবার, তাও স্বল্প গভীরতায় দেশের অভ্যন্তরে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা এর পেছনের ভূতাত্ত্বিক কারণ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করছেন।

'আফটার শক' স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ইউনিট) মোমিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরপর ঘটে যাওয়া ছোট কম্পনগুলো মূলত 'আফটার শক'। এটি প্রধান কম্পন বা 'মেইন শকের' (শুক্রবার ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প) শক্তি নির্গমনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, একটি বড় ভূমিকম্পের আগে 'প্রি-শক' এবং পরে 'আফটার শক' হয়ে থাকে। গত শনিবার যে ছোট ছোট কম্পনগুলো অনুভূত হয়েছে, তা হলো আফটার শক। একটি বড় ইভেন্ট (ভূমিকম্প) ঘটার পরে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এমন ছোট কম্পন হতে পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 

তবে তিনি সতর্ক করে আরও বলেছেন যে, তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আপাতত বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি না থাকলেও, জনগণের সচেতন থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ এখন উৎপত্তিস্থল দেশের বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনাকে 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' এবং 'উদ্বেগজনক' বলে মনে করছেন। 

তাদের মতে, পরপর দেশীয় উৎপত্তিস্থলে হওয়া এই কম্পনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশ এখন আর কেবল পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ভূমিকম্পের ফল ভোগ করছে না, বরং নিজেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলে পরিণত হচ্ছে।

বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, দুদিনে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং এর চেয়েও বড় কথা হলো, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী এক সপ্তাহে আরও ২০ বার এমন মৃদু কম্পন অনুভূত হতে পারে। ৫.৭ মাত্রার চেয়েও শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ দুর্যোগ হতে পারে। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অবস্থান ভারত, ইউরেশিয়া ও বার্মা মোট তিনটি দৈত্যাকৃতির টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে। এই প্লেটগুলো বর্তমানে আটকে থাকা অবস্থা থেকে মুক্ত হচ্ছে, ফলে যেকোনো সময় উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশ। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দুই প্লেটের সংযোগস্থলে গত ৮০০ থেকে হাজার বছরে জমে থাকা শক্তি বের হয়নি, যা এই অঞ্চলকে 'খুবই ঝুঁকিপূর্ণ' করে তুলেছে।

অধ্যাপক মো. বদরুদ্দোজা মিয়া এই সাম্প্রতিক কম্পনগুলোকে 'ইন্ট্রাপ্লেট' ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, এগুলো টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় নয়, বরং ভারতীয় প্লেটের ভেতরের কোনো ফাটল বা চ্যুতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। 

তার মতে, দেশের ভেতরের ভূগর্ভস্থ চাপ এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং অতীতেও এই ধরনের ছোট কম্পন বা 'আফটার শক' দেখা গেছে। তবে তিনি সচেতনতা ও ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা জরুরি। মূল সমস্যা হলো ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে দুর্বল অবকাঠামো। রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম মেনে অনেক ভবন তৈরি না হওয়ায়, বড় ভূমিকম্পের মুখে এসব ভবন সহজেই ধ্বসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায় মধ্যরাতে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ২৯ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক কম্পনটি টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রায় সংঘটিত হয়।

আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ভলকানো ডিসকভারি জানায়, ভূমিকম্পের তীব্রতা খুব কম থাকায় টেকনাফের অধিকাংশ মানুষ কম্পনটি বুঝতেই পারেননি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা সম্পর্কে প্ল্যাটফর্মটি কোনো তথ্য দিতে না পারলেও, ইউরোপিয়ান-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে কম্পনটি ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছিল।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাংলাদেশে সার্বক্ষণিক বিদ্যমান।

ইএইচ

Link copied!