ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

সিরিজ বাঁচাতে লড়াই: বিশ্বরেকর্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ ভারতের সামনে

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম

সিরিজ বাঁচাতে লড়াই: বিশ্বরেকর্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ ভারতের সামনে

গুয়াহাটি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ভারত এখন এক অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াইয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা যে লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে, তা শুধু বড় নয়, টেস্ট ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে অনেকটাই। ঘরের মাঠে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে হলে গৌতম গম্ভীরের শিষ্যদের তাই একদিনের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার তীক্ষ্ণ বোলিং আক্রমণের সামনে টিকে থাকতে হবে, আর জয় চাইলে গড়তে হবে টেস্ট ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস।

মঙ্গলবার গুয়াহাটি টেস্টের চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনে ৫ উইকেটে ২৬০ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ত্রিস্তান স্ট্যাবস। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছেও মাত্র ৬ রানের জন্য তা হাতছাড়া করেন তিনি। তবে তার ৯৪ রানের ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডটাকে আরও বিশাল ব্যবধানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

প্রোটিয়াদের ইনিংসে কাইল ভেরেইন, মার্কো জানসেন ও রিয়ান রিকেলটনের ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান দলকে ৫০০ রানের ঘরে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। প্রতিপক্ষকে কঠিন চাপে ফেলতে ইনিংস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত ছিল যথার্থই কৌশলী।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ঘোষণার পর জয় পেতে হলে ভারতকে করতে হবে ৫৪৯ রান। শুধু বড় লক্ষ্যই নয়, চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ার ইতিহাসেও এর চেয়ে বড় লক্ষ্য কখনো তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল।

২২ বছর আগে ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার ৪১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেয়েছিল এখনও পর্যন্ত সেটিই টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। সেই রেকর্ড ভেঙে জিততে হবে রোহিত শর্মাদের।

কিন্তু বাস্তবতা আরও কঠিন। ব্যাট করতে হবে সম্ভাব্য ১১০ ওভারের মধ্যেই। অর্থাৎ রান তাড়ার পাশাপাশি সময় নিয়ে লড়াইও থাকবে সমান তালে।

গুয়াহাটি টেস্টে খেলার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য প্রথমে নিজেদের উইকেটটাকে বাঁচানো। চতুর্থ দিন শেষে ভারতের ড্রই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা এখন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।

স্পিন-বান্ধব উইকেটে কেশব মহারাজ, নোঁয়ান্ডো নেনদি এবং পেসে মার্কো জানসেন ও জেরাল্ড কোটজির সমন্বয়ে গড়া প্রোটিয়া আক্রমণ ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, কলকাতা টেস্ট জিতে সিরিজ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গুয়াহাটিতে জয় পেলে ভারতকে ঘরের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ করে এমন এক অর্জন যোগ করবে যা ইতিহাসে খুব কম দলই করতে পেরেছে।

ইনিংস ঘোষণার পর ত্রিস্তান স্ট্যাবস বলেন, ভারত ঘরের মাঠে সবসময় শক্তিশালী। তবে চতুর্থ ইনিংসে এমন লক্ষ্য তাড়া করা সত্যিই কঠিন। আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে সঠিক জায়গায় বল করতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমরা যে লিড গড়েছি, তা যেকোনো দলকেই চাপে ফেলবে। এখন শুধু বোলারদের পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভারতীয় দলের সামনে এখন মানসিক চাপই সবচেয়ে বড় বাধা। রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, বিরাট কোহলি তাদের কারও ব্যাট থেকে বড় ইনিংস প্রয়োজন। এর সঙ্গে মধ্য ও নিম্ন ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে টিকে থাকার।

হেড কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছেন, টার্গেটটা বিশাল। তাই জয় নয়, প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত পুরো সময় ব্যাট করা। পিচ চতুর্থ দিনে ভেঙে গেছে, তাই ধৈর্যই হবে মূল।

তবে ভারতীয় ব্যাটিং যে কখনোই সহজে ভেঙে পড়ে না সে ব্যাপারেও তিনি আত্মবিশ্বাসী।

টেস্টের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা চাইলে গুয়াহাটিতে ম্যাচটি কয়েক সেশনেই শেষ করতে পারে। ভারতকে যদি দ্রুত অলআউট করতে পারে, তবে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এশিয়ার মাটিতে ভারতকে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব পাবে প্রোটিয়ারা।

এই ম্যাচে জয় পেলে- সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতবে, ভারতকে ঘরের মাঠে লজ্জায় ফেলবে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বিশাল পয়েন্ট তুলবে, বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য আরও জোরদার হবে।

ভারতের সামনে এখন দুটো পথ
১. অসম্ভবকে সম্ভব করা, অর্থাৎ বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ৫৪৯ রান তাড়া করা।
২. অথবা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ম্যাচটি ড্র করে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

গুয়াহাটি টেস্টের শেষ দেড় দিন তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে উত্তাল রোমাঞ্চের মঞ্চ। ক্রিকেটবিশ্ব তাকিয়ে আছে-ভারত কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যের সাক্ষী হবে।

জেএইচআর

Link copied!