ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ বর্জনের পথে বাংলাদেশ

৩৩০ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোসহ গভীর সংকটে দেশের ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

৩৩০ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোসহ গভীর সংকটে দেশের ক্রিকেট

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। 

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই। আইসিসি তাদের ভেন্যু অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে স্থির থাকায় এটি এখন প্রায় নিশ্চিত যে, বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু এ একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে পরিমাণ আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে, তা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিসিবির আয়ের প্রধান উৎস ও বর্তমান ঝুঁকি নিয়ে বিসিবির বার্ষিক আয়ের মূল কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ অর্থ আসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে। 

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের তথ্যমতে, আইসিসির রাজস্বের ভাগের ওপরই দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে আইসিসির সাথে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ হবে। এর ফলে বাংলাদেশ আইসিসি থেকে পাওয়া বাৎসরিক রাজস্বের একটি বড় অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

আর্থিক ক্ষতির খতিয়ান অনুযায়ী ৩৩০ কোটি টাকার লোকসান হতে পারে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যমতে, এবার বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরাসরি প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা) আয়ের সুযোগ হারাবে। এ অর্থের সিংহভাগ আসত আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ৪.৪৬ শতাংশ ভাগ হিসেবে। 

এছাড়াও অন্যান্য খাতে ক্ষতির পরিমাণগুলো হলো অংশগ্রহণ ফি, প্রতিটি দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্যই পায় ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)। বাংলাদেশ এটি থেকেও বঞ্চিত হবে। প্রাইজমানি ও বোনাস হিসেবে গতবারের চেয়ে এবার প্রাইজমানি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে আইসিসি। গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে প্রতি ম্যাচ জয়ের জন্য ৩১,১৫৪ ডলার বোনাস পাওয়া যেত।

রানার্সআপ বা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিশাল অঙ্কের অর্থের বাইরেও কেবল নকআউট পর্বে উঠতে পারলেই কয়েক কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ হারাবে দল। জরিমানা হিসেবে যদি আইসিসি মনে করে যে বাংলাদেশের না খেলার কারণটি পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়, তবে বিসিবিকে উল্টো ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

ঘরোয়া সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপন খাতের ধস নিয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার প্রভাব কেবল বিসিবির ওপর নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনী বাজারের ওপরও পড়বে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘রেভস্পোর্টজ’ এর দাবি অনুযায়ী এ দেশে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সম্প্রচারক টি স্পোর্টস প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে। 

বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসররা প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজার হারাবে। উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই বিশাল ভিউয়ারশিপ। বাংলাদেশ না থাকলে স্পনসরদের আগ্রহে ভাটা পড়া এবং বড় ধরনের বাণিজ্যিক লোকসান এখন অনিবার্য।

দীর্ঘমেয়াদি ও ক্রিকেটীয় ক্ষতির চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ক্ষতি। ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা রয়েছে। সম্পর্কের এ বৈরিতার কারণে ভারত যদি সফর বাতিল করে, তবে বিসিবি সম্প্রচার স্বত্ব থেকে কয়েকশ কোটি টাকা আয়ের সুযোগ হারাবে। আইসিসিতে প্রভাব হ্রাসের ক্ষেত্রে আইসিসির পরবর্তী রাজস্ব চক্রে (২০২৮ সাল থেকে) বাংলাদেশের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। 

পাশাপাশি আইসিসির বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটি থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়া বা ভোটাধিকার সীমিত করার ঝুঁকি তৈরি হবে। বাছাইপর্বের শঙ্কা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অংশ না নিলে র‍্যাঙ্কিং ও নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সরাসরি খেলার সুযোগ হারাতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বে ওঠার কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে টাইগারদের।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ক্ষতি নিয়ে বিসিবির পাশাপাশি ক্রিকেটাররাও ব্যক্তিগতভাবে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস এবং ব্যক্তিগত এন্ডোর্সমেন্ট থেকে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন তারা। যা দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড়দের মানসিক ও আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো দেশের জন্য অগ্রাধিকার। 

তবে আইসিসির সাথে দেনদরবারে সফল না হওয়া এবং বিশ্বকাপ বর্জনের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বিশাল চড়া মূল্য হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ৩৩০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলা করা বিসিবির জন্য আগামী দিনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ইএইচ

Link copied!