স্পোর্টস ডেস্ক
জুন ১২, ২০২৬, ০৭:২৬ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক সান্তিয়াগো আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়েছে দলটি। ম্যাচের দুই গোলদাতা হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস শুধু জয়ই এনে দেননি, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প দিয়েও আলোচনায় উঠে এসেছেন।
ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথম গোল করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনোনেস। এরপর ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস। উদ্বোধনী ম্যাচের চাপের মধ্যেও তাদের পারফরম্যান্স মেক্সিকোকে এনে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসী সূচনা।
-20260612012539.jpg)
হুলিয়ান কিনোনেসের ফুটবল যাত্রা অন্যদের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমী। বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলম্বিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তার। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কলম্বিয়ার বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন তিনি এবং নিজের প্রতিভার ছাপও রেখেছেন।
তবে সিনিয়র পর্যায়ে কলম্বিয়ার জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ায় তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। ২০১৬ সালে ক্লাব ফুটবলের সুযোগ নিয়ে তিনি মেক্সিকোতে পাড়ি জমান। সেখানে ‘লিগা এমএক্স’-এ ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তিগরেস ইউএএনএল, আতলাস এবং ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে মেক্সিকোর ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান এনে দেয়। দীর্ঘদিন দেশটিতে থাকার পর ২০২৩ সালে তিনি মেক্সিকোর নাগরিকত্ব লাভ করেন। এরপর জাতীয় দলে ডাক পেয়ে দ্রুত আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন।
বর্তমানে তিনি সৌদি প্রো লিগের ক্লাব ‘আল-কাদসিয়াহ’-এর হয়ে খেলছেন। ২০২৪ সালে বড় অঙ্কের চুক্তিতে সেখানে যোগ দেওয়ার পরও গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মাত্র ৯ মিনিটে গোল করে কিনোনেস বিশ্বকাপ ইতিহাসের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করা ফুটবলারদের বিশেষ তালিকায় নিজের নাম লেখান। নিজের জন্মভূমি নয়, বরং গ্রহণ করা দেশের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হওয়া তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে।
মেক্সিকোর দ্বিতীয় গোলদাতা রাউল হিমেনেসের গল্প ফুটবলের বাইরেও অনুপ্রেরণার প্রতীক। ৩৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বহু বাধা পেরিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
ক্লাব আমেরিকার যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা হিমেনেস মেক্সিকান ফুটবলের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড। এরপর ইউরোপে গিয়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, বেনফিকা এবং পরে ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে খেলেন।
তবে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে তার জীবন বদলে যায়। আর্সেনালের বিপক্ষে এক ম্যাচে ডেভিড লুইজের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর মাথার আঘাত পান তিনি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথার খুলি ফেটে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কা দেখা দেয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। এরপর ২০২১ সালের আগস্টে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন। নিরাপত্তার জন্য এখনও বিশেষ সুরক্ষামূলক হেডগিয়ার পরে খেলেন তিনি।
এর মধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চে পিতাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোকও তাকে সামলাতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোল করার পর আকাশের দিকে হাত তুলে গোলটি প্রয়াত বাবাকে উৎসর্গ করেন তিনি। সেই মুহূর্তে তার আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ নিয়ে মেক্সিকোর ওপর বরাবরই একটি মানসিক চাপ ছিল। স্বাগতিক হওয়ায় এবার সেই চাপ আরও বেশি ছিল। কিন্তু কিনোনেসের দ্রুত গোল এবং হিমেনেসের অভিজ্ঞ ফিনিশিং দলটিকে এনে দিয়েছে স্বস্তিদায়ক জয়।
উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর জয়ের নায়ক ছিলেন দুই ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস। ২৯ বছর বয়সী কিনোনেসের জন্ম কলম্বিয়ায় হলেও ২০২৩ সালে মেক্সিকোর নাগরিকত্ব লাভের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-কাদসিয়াহ-এর ফুটবলার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ৯ মিনিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোলটি করেন। অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সী রাউল হিমেনেস মেক্সিকোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। ক্লাব আমেরিকা থেকে উঠে এসে তিনি অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, বেনফিকা ও ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মতো ক্লাবে খেলেছেন। ২০২০ সালে ভয়াবহ মাথার ইনজুরির পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও দারুণভাবে ফিরে আসেন এবং উদ্বোধনী ম্যাচে ৬৭ মিনিটে গোল করে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করেন।
মেক্সিকোর জন্য এই ম্যাচটি ছিল শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের নয়, বরং আবেগ, সংগ্রাম এবং পুনর্জাগরণের প্রতীক। একদিকে নতুন পরিচয়ে ইতিহাস গড়া হুলিয়ান কিনোনেস, অন্যদিকে জীবনের কঠিন লড়াই জিতে ফেরা রাউল হিমেনেস-দুজনের গোলেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
প্রথম ম্যাচের এই জয় মেক্সিকোর সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনী ম্যাচের এই আত্মবিশ্বাস তারা পুরো টুর্নামেন্টে কতটা কাজে লাগাতে পারে।
এম জি