ক্রীড়া প্রতিবেদক
জুন ১৩, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)সহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকাগামী যাত্রা শেষে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন নাঈম হাসান। পথে লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার যাত্রা থামান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাঈমের দাবি, এরপর তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি পরিচয়পত্রও দেখান, তবে তা উপেক্ষা করে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী একজন ব্যক্তি তাকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে আঘাত করেন। আশপাশের লোকজন তার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়নি বলে দাবি করেন নাঈম।
পরবর্তীতে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়, যেখানে আরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, একটি অটোরিকশাকে ঘিরে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে তথ্যের যথার্থতা ও অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা এসআই শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে গোটা অভিযানের তথ্য ও প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য ও একজন সোর্সকে আসামি করা হয়েছে, যেখানে অপহরণের চেষ্টাসহ মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার পর নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া মাত্রই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নাঈম হাসান ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এএন