স্পোর্টস ডেস্ক
জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
চলমান বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের (VAR) হস্তক্ষেপে বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত সেই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে জোড়া গোল করার মাধ্যমে দলকে জেতান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বৃহস্পতিবার ভোরে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২২ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ফুটবলারদের একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস।
অনবদ্য এই গোলের পর মাঠের রেফারি শুরুতে গোলের সংকেত দিলেও পরবর্তীতে নিখুঁত সিদ্ধান্তের জন্য ভিএআরের সহায়তা নেন। দীর্ঘ সময় ধরে রিপ্লে পর্যালোচনার পর রেফারি জানান, গোল অভিমুখে শট নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্কটল্যান্ডের একজন ডিফেন্ডারের পায়ে আঘাত বা ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। মূলত প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে বাধা দেওয়ার কারণেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেক সমর্থকের মতে, ভিনিসিয়ুস ও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যেকার শারীরিক স্পর্শটি ছিল অত্যন্ত সামান্য, যা ফাউল হিসেবে গণ্য করার মতো ছিল না। তবে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার ও বর্তমান জনপ্রিয় ফুটবল ধারাভাষ্যকার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, বলে শট নেওয়ার আগে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে লাথি মারার মতো ঘটনাটি ফুটবলের নিয়মানুযায়ী স্পষ্ট ফাউল।
ম্যাকফ্যাডেন বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার একটি ফাউল ছিল। মাঠে স্পর্শের মাত্রা কম ছিল নাকি বেশি ছিল, সেটি মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় যখন বলটি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁকে অনৈতিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি একদম নিখুঁত ছিল।
ম্যাচের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভিনিসিয়ুসের মধ্যে কিছুটা হতাশার ছাপ দেখা গেলেও, তা তাঁর খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাঠে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। একের পর এক গতিময় আক্রমণে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত ব্যতিব্যস্ত ও চাপে রাখেন তিনি।
অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফল পান ভিনিসিয়ুস। চমৎকার এক হেডে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে প্রথমার্ধেই ব্রাজিলকে লিড এনে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে স্কটিশ ডিফেন্ডারদের তটস্থ রেখে পরবর্তীতে আরও একটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি সেলেসাওদের বড় জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা। বিতর্কিত গোল বাতিলের ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়েই সব আলোচনার আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন।
জেএইচআর