Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,

এবারও ভাঙছে না বিএনপি!

আবদুর রহিম

নভেম্বর ১৩, ২০২৩, ১১:২৯ পিএম


এবারও ভাঙছে না বিএনপি!

দলছুটদের অবস্থান সবারই জানা, কেউ সরকারের ফাঁদে পা দেবে না
—ড. মঈন খান
স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি

তফসিলের আগে-পরে বিএনপির হাইপ্রোফাইলের কেউ কেউ বিশেষ আহ্বানেও দলছুট হচ্ছেন না
আমি বিএনপিতেই আছি দলকে বারবার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছি
—হাফিজউদ্দিন আহমেদ
ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি

দু’-এক দিন পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূল নির্বাচন দেখতে চায় বিশ্ব সমপ্রদায়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ১৭ দিন ধরে তালা ঝুলছে। গত ২৮ অক্টোবর ‘ক্রাইম সিন’ ঘোষণার পর থেকে এখনো পুলিশি ঘেরাওয়ের মধ্যে দলীয় অফিস। নেতাকর্মীরা সবাই আত্মগোপনে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, ওয়ান-ইলেভেন স্টাইলে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে সরকার। সব ধরনের জালই বুনেছিল তারা। তফসিলের আগেই বিএনপির বড় একটি অংশকে সরকার বিভিন্ন আসনের লোভ দেখিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিল। অনেকের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের খবরও রয়েছে বিএনপির কাছে। বিএনপি সেটি বুঝতে পেরে শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে। দলের সর্বোচ্চ হাইকমান্ড থেকে বুঝানো হয়েছে। এখন দলের হাইপ্রোফাইলের কেউ দলছুট হওয়ার তেমন আর সম্ভাবনা নেই বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য। তবে এখনো বিএনপির একাদশে নির্বাচিত হওয়া সাবেক ছয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পন্থির অনুগত যারা রয়েছেন, তাদেরকে সরকার দলে নিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদের কেউ যদি জোট কিংবা দলছুট হয়েও যায় তাতে বিএনপি চিন্তিত নয়।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এমন দুঃসময়েও দলে ভাঙন তৈরি হয়নি। যারা নির্দেশনার বাইরে গেছে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার পর কেউ কেউ সরকারের ঘরে গেছে। এদের মধ্যে বিএনপির সাবেক দুই নেতা সমশের মবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকার রয়েছেন। তারা তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপির অনেককেই নিতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। সমপ্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাদের দলে যোগদান অনুষ্ঠানও ব্যর্থ হয় বলে ভাষ্য বিএনপির। তৃণমূল বিএনপি ৩০০ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো নিয়ে বিএনপির ঘরে ভাবনা নেই। এ ছাড়া তারা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গেও বৈঠক করার ব্যবস্থা করান। সূত্রটি বলছে, ওই বৈঠকটি হাফিজের ইচ্ছায় নয়, তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে হয়। যারা বিএনপি ছেড়ে লোভে পড়েছেন তাদের দুরবস্থায় পড়তে হয়েছে। সিনিয়র নেতারা সেগুলো আমলে নিয়ে অনেক সতর্কতার সাথে পা পাড়াচ্ছেন। কেই লোভনীয় সুযোগে পা দিচ্ছেন না। নেতাকর্মীরা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ওয়ান-ইলেভেনের সময়েও বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এখনকার প্রেক্ষাপটেও লাভ হবে না উল্লেখ করে নেতারা বলেন, শুধু শুধু বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করতে পারবে কিন্তু বিএনপিকে ভাঙতে পারবে না। 

বিএনপিপন্থি বিশ্লেষকরা বলছেন— বিএনপি নেতানেত্রীর দল নয়, সংকট সময়ে বিপ্লবের দল। সাময়িক সংকট মোকাবিলা করে ঘাড় উঁচু করতে পারলেই এ দলের জন্য সুসময় অপেক্ষা করছে। দলটির সূচনালগ্ন থেকে অনেক বড় বড় সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর এ সব কিছুই হয়েছে দলটির জনপ্রিয়তার কারণে। এ দেশের রাজনীতিতে কত দল কতভাবে ভেঙে শেষ হয়ে গেছে, এখনো বিএনপি টিকে আছে। দলটির এখন একটু দুঃসময় যাচ্ছে। অনেকে হামলা-মালার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। খুব শিগগিরই এগুলো কেটে যাবে। এবার বিএনপি ভোটে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে জামায়াত, চরমোনাইসহ অনেকে একমত রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খুব শিগগিরই তারা এক ব্যানারে রাজপথে নেমে আসবে। তফসিল ঘোষণা হলে সরকারের পতন পর্যন্ত সিরিজ আকারে কর্মসূচি চলতে থাকবে। 

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান আমার সংবাদকে বলেন, ‘বিএনপিকে ক্ষতি করার জন্য সরকার অনেক কিছুই করেছে বিগত বছর ধরে। কিন্তু সফল হতে পারেনি। দল ভেঙে রাজনীতি করা খুবই খারাপ চরিত্র। দল ভেঙে একটি দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আওয়ামী লীগ বিএনপির কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। বিএনপিকে দেশের মানুষ চায় কি চায় না সেটি খুব অল্প সময়ে প্রমাণ হয়ে যাবে। যারা দলছুট হয়েছে তারা কোথায় পৌঁছেছে তা সবারই জানা। আমি মনে করি, এখন শুধু বিএনপি নয় অন্য কোনো দলও আর সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। সবাই এক দফার আন্দোলন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমি বিএনপিতে আছি, এই দল ছেড়ে কোথাও যাইনি। আমি বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে বারবার রক্ষা করেছি। জেল থেকে বেগম জিয়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার। আমি সেটিও করেছি। কিন্তু তারাই (দলের একাংশ) আমার বিরুদ্ধে এখন ভাঙনের অভিযোগ আনছে, বলছে আমি না-কি সংস্কারপন্থি।’ এগুলো খুব শিগগিরই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
 

Link copied!