community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪,

বিসিক শিল্পপার্ক-সিরাজগঞ্জ

প্রকল্পের গাড়িতে পিডির পারিবারিক বিলাসিতা

নুর মোহাম্মদ মিঠু

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৪, ০১:০৪ এএম


প্রকল্পের গাড়িতে পিডির পারিবারিক বিলাসিতা
  • জ্বালানি ও চালকের বেতন প্রকল্পের টাকায়, তবুও গাড়ি সুবিধা পাচ্ছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা
  • প্রকল্প সিরাজগঞ্জে, গাড়ি চলে রাজশাহী উপশহরে

অনিয়মের বিষয়টি দেখব
—সঞ্জয় কুমার ভৌমিক চেয়ারম্যান, বিসিক  

পরিবার ব্যবহার করে না। গাড়িটি ঢাকায় চলে
—বায়েজীদ জাফর
প্রকল্প পরিচালক

‘বিসিক শিল্প পার্ক সিরাজগঞ্জ’ শীর্ষক প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করছেন প্রকল্প পরিচালক-পিডি বায়েজীদ জাফরের পরিবারের সদস্যরা। ওই প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য গাড়ি দেয়া হয়েছে দুটি। একটি পিডির জন্য, অপরটি প্রকল্পের কর্মচারীদের জন্য। নিজের জন্য বরাদ্দ গাড়ির (সিরাজগঞ্জ ঘ ১১-০০৪৩) ব্যবহার ঠিকঠাক থাকলেও প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি (সিরাজগঞ্জ চ ৫১-০০১০) পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য রাজশাহীতে পাঠিয়েছেন তিনি। অথচ গাড়ি দুটিরই জ্বালানি খরচ বহন করা হয় প্রকল্পের টাকায়। এমনকি চালকের বেতনও বহন করা হয় প্রকল্পের টাকায়। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদও এখন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে কয়েক দফায়, সাথে বেড়েছে ব্যয়ও। চলতি বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

প্রকল্পটির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পিডি বায়েজীদ জাফর প্রকল্পের গাড়ির অপব্যবহার করছেন। এ ছাড়াও প্রকল্পের এয়ার কন্ডিশন-এসি, ইনস্ট্যান্ট পাওয়া সাপ্লাই- আইপিএস নিয়েও সিরাজগঞ্জ জেলা বিসিক কার্যালয়ে নিজ দপ্তরে লাগিয়েছেন। যা নিয়ম বহির্ভূত বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, গত চার-পাঁচ মাস ধরে বিসিক কার্যালয়েও অফিস করেন না তিনি। প্রকল্পের অফিসে বসেই করেন বিসিকের যাবতীয় কাজ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও বলছে, তার স্ত্রী-সন্তানরা থাকেন রাজশাহী উপশহরে। প্রকল্পের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটিও পাঠিয়েছেন সেখানে। অথচ গাড়িটি থাকার কথা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায়, অর্থাৎ সিরাজগঞ্জে। 

সূত্র বলছে, ওই গাড়িটির চালক (সুমন) সম্পর্কে তার ভাগনে। বাড়ি রংপুর জেলায়। তথ্য গোপন রাখার শর্তে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করছেন সেটির চালকও তার আত্মীয়। জানতে চাইলে চালক সুমন জানান, তার (পিডি জাফর) পরিবার থাকে রাজশাহী উপশহরে। তবে তিনি এখন রংপুরে আছেন। আপাতত গাড়ি চালাচ্ছেন না তিনি। গাড়িটি কত দিন ধরে রাজশাহীতে চলছে তা জানতে চাইলে সুমন বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং আর কোনো কথাও বলতে রাজি হননি। যদিও জ্বালানির বিল উত্তোলনের কাগজে দেখা গেছে, পিডি জাফর যে গাড়িটি ব্যবহার করছেন, সেটির চালক হিসেবে দেখানো হয়েছে সুমনকে। সুমনই জ্বালানি বিল উত্তোলনের আবেদন দাখিল করেন।  

জানতে চাইলে পিডি বায়েজীদ জাফর আমার সংবাদকে বলেন, গাড়িটি তার পরিবার ব্যবহার করছে না। গাড়িটি ঢাকায় চলে। এটি প্রকল্পের ডিপিডি ব্যবহার করতেন। জেলা কার্যালয়ে অনিয়মিত অফিস করার বিষয়ে তিনি বলেন, দুটো অফিসই করেন তিনি। প্রয়োজনবোধে দুই জায়গাতেই অফিস করেন। এ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে নিজ দপ্তরে প্রকল্পের এসি-আইপিএস ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো আগে থেকেই ছিল। তিনি লাগাননি। এটি মূলত প্রকল্পের ডিপিডির দপ্তর ছিল। তিনি লাগিয়েছিলেন। 

প্রকল্পের সাবেক ডিপিডি রাশেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে আমার সংবাদকে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রকল্পের এসি-আইপিএস জেলা কার্যালয়ে নেননি। এ ছাড়া গাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, গাড়িটিও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের কথা। অন্যত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই। তা ছাড়া তিনি ওই প্রকল্প থেকে এসেছেন ছয় থেকে সাত মাস আগে। আসার সময় সব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছেন। এখন সেখানে কি হচ্ছে তা জানার কথা নয়, বলেন তিনি। বিষয়টি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিককে জানালে আমার সংবাদকে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখব। 

প্রকল্পটির পিডির বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পরিকল্পনা) রাহেনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি তিনি দেখেন না। অন্য একজন কর্মকর্তা দেখেন। জানতে চেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বিসিক, এসএমই ও বিটাক) মো. নুরুজ্জামান এনডিসিকে ফোন করা হলে তিনিও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি আমরা দেখি না। এসব বিষয়ে পরিকল্পনা শাখার একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
 

Link copied!