Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২০ মে, ২০২৪,

ডকুমেন্ট পেলে বিআইপিডির টাকা ফেরত দেবে ফারইস্ট ফাইন্যান্স

জাহাঙ্গীর আলম আনসারী

জাহাঙ্গীর আলম আনসারী

এপ্রিল ২১, ২০২৪, ০১:২৭ এএম


ডকুমেন্ট পেলে বিআইপিডির টাকা ফেরত দেবে ফারইস্ট ফাইন্যান্স
  • এক কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না —বিআইপিডি চেয়ারম্যান
  • এখানে আইনি জটিলতা আছে
    —ফারইস্ট ফাইন্যান্স এমডি
  • এ বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছি
    —কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিধিবদ্ধ ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট না পেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইপিডি) মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআরের এক কোটি আট লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে পারবে না ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এফএফআইএল। বিআইপিডি যদি সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট প্রদান করে তাহলে ফারইস্ট ফাইন্যান্স টাকা ফেরত দিতে পারবে। বিআইপিডির অভিযোগের জবাবে এমনটিই জানিয়েছেন ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী রাজিয়াব।

গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (এফএফআইএল) বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআরের এক কোটি আট লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিআইপিডির চেয়ারম্যান মো. এহসান খসরু, পরিচালক কাজী মো. মোরতুজা আলী ও জেনারেল সেক্রেটারি এ কে এম এহসানুল হক।
বিআইপিডির চেয়ারম্যান এহসান খসরু অভিযোগ করেছেন, বিআইপিডি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে৬ সর্বমোট এক কোটি আট লাখ ৩৫ হাজার টাকার ছয়টি এফডিআর অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। সবকটি এফডিআর বিভিন্ন তারিখে (২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩০ মে ২০১৯-এর মধ্যে) মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড বিআইপিডির কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। এমনকি লভ্যাংশও দিচ্ছে না। তবে বিআইপিডির এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এফএফআইএল কর্তৃপক্ষ।

বিআইপিডির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এফএফআইএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুহাম্মদ আলী জারিয়াব দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘এটি অনেক পুরোনো ঘটনা। আমি এই প্রতিষ্ঠানের যোগদানের আগেই এই সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। ফারইস্ট ফাইন্যান্স বিআইপিডির এফডিআরের টাকা ফেরত দিচ্ছে না— এমন অভিযোগ সঠিক নয়। প্রথমত, পরিচালক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে একটি আইনি জটিলতা আছে। মূলত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বিআইপিডির মেয়াদি আমানত হিসাবসমূহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিক্যালস অব  অ্যাসোসিয়েশন, ফর্ম-এক্সএলএল, সিডিউল-এক্স ইত্যাদি গ্রহণ না করেই এবং যথাযথভাবে কেওয়াইসি করা ব্যাতিরেকেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হিসাবগুলো খোলা হয়েছিল। ২০২১ সালে বর্তমান ব্যবস্থাপনা হিসাবসমূহ নিয়মিতকরণের মাধ্যমে নগদায়ণ বিষয়ে সিদ্বান্ত গ্রহণের জন্য উপরোক্ত ডকুমেন্টসমূহ সরবরাহ করার জন্য পত্র মারফত বিনীত অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কাজী মোর্তজা আলী ডকুমেন্টগুলো সরবরাহ করেননি এবং উপরোক্ত ডকুমেন্টসমূহ দাখিল করার প্রয়োজন নেই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন। উপরোক্ত ডকুমেন্টসমূহ প্রাপ্তি সাপেক্ষে যথাযথভাবে কেওয়াইসি সম্পন্ন করা ছাড়া হিসাব নিয়মিত হবে না এবং অনিয়মিত হিসাব নগদায়ণ সমীচীন নয়। পূর্বতন ব্যবস্থাপনা অনিয়মিত উপায়ে হিসাব খুলে থাকা সত্ত্বেও হিসাবগুলো নিয়মিতকরণের দায় বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর বর্তায়।’ 

তিনি বলেন, ‘কাজী  মো. মোরতুজা আলী ১৬ জুলাই ২০১৮ ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক ও বোর্ড অডিট কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন তথাপিও কেন তিনি সেই সময়ে আমানত নগদায়ণ করতে পারেননি? তখন তিনি এই টাকা নিতে পারেননি কেন? তখন কে বাধা দিয়েছিল? কি সমস্যা ছিল?

ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নজিরবিহীন অনিয়মের জন্য কতিপয় সাবেক পরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আছে। আরো ব্যাপক তদন্ত চলমান মর্মে জানা যায়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দাখিল না করে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবর অভিযোগ পত্র প্রেরণ এবং সংবাদ সম্মেলনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিডির চেয়ারম্যান বলেন, এখন পর্যন্ত ৫৬টি পত্র দেয়া সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমন কি ২০২০ সালের পরে কোনো পত্রের জবাবও দেয়নি। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার এবং পাওনা পরিশোধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের শরণাপন্নও হয় বিআইপিডি। ২০১৯ সালের ১১ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর সর্বপ্রথম পত্র দেয়া হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পত্র পাঠানো হয়। এ যাবত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর এবং ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ বরাবর ৩৬টি পত্র ও ইমেইল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। জবাব না দেয়ার কোনো কারণ আছে কি-না আমরা তাও জানতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সরাসরি সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ও বাজার বিভাগের (ডিএফআইএম) পরিচালক মো. আমির উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, কোম্পানি ম্যাটার নং-২৪৩/২০২০ এর পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য আদালতের ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে রক্ষিত বিআইপিডির আমানত অবরুদ্ধ করা হয়েছে।’

বিআইপিডির চেয়ারম্যানের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বক্তব্য আদৌ যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নয়। ওই মামলাটি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং পিএফআই প্রোপারটিজ লিমিটেডের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে। এই মামলার সঙ্গে বিআইপিডি কোনোভাবেই জড়িত নয়। আদালতের আদেশে বিআইপিডির হিসাব ফ্রিজ করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।
 

Link copied!