ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ডেন-২ তে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩, ১২:০৩ এএম

ডেন-২ তে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি

চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো তথ্য বলছে, দেশে সর্বশেষ একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজার ১১৫ জন। সংস্থাটি থেকে পাঠানো তথ্যে বলা হয়, এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ২২ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬৭১ জনের। 

রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন ডেঙ্গুর চারটি ধরন। যেমন— ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। ডেঙ্গুর একটি ধরনে আক্রান্ত হলে সেই নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিরোধক্ষমতা শরীরে গড়ে ওঠে, পরবর্তী সময়ে সেই ধরনটিতে মানুষ আর আক্রান্ত হয় না। তবে অন্য ধরনে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এভাবে মোট চারবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডেঙ্গুতে প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতা ও জটিলতা দুটিই বেশি থাকে। চলতি বছর ডেন-২ তে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬২ শতাংশই সেরোটাইপ-২ বা ডেন-২ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ডেন-৩ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে ২৯ শতাংশ এবং ডেন-২ ও ডেন-৩ দ্বারা একসঙ্গে আক্রান্ত হয়েছে ১০ শতাংশ ডেঙ্গুরোগী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের জরিপে ডব্লিউএইচও গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করা আইইডিসিআর তথ্য বলছে, ২০২২ সালে নমুনা বিশ্লেষণে প্রাধান্য ছিল ডেন-৩-এর। ৯০ শতাংশ রোগী আক্রান্ত হয়েছিল ডেন-৩-এ। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ ছিল ডেন-৪। দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০০০ সালে। তবে ডেঙ্গুর ধরন বিশ্লেষণ শুরু হয় ২০১৩ সালে। তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডেন-১ ও ডেন-২ বেশি ছিল। প্রায় সাত বছর পর ডেন-২ বেশি দেখা যাচ্ছে। দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ ১৩ হাজার ৫৪ জন, সে সময় মৃত্যু হয়েছিল ১৫৬ জনের। তখন ৯০ শতাংশ মানুষ ডেন-৩-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। 

ডেঙ্গু ডেন-২ ধরনে আক্রান্তের বিষয়ে আমার সংবাদের এ প্রতিবেদক কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে ডেন-২ একটি। ডেন-২ সংক্রমণ অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি এমন কেউ যদি প্রথমবার ডেন-২ দ্বারা কেউ আক্রান্ত হন। তাহলে তার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ডেন-২ তে আক্রান্ত হলে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। ডেন-২ তে প্লাজমা লিকেজ হয় বেশি। রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে।

ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও এডিস মশা প্রজনন সম্পর্কে আমার সংবাদের  এ প্রতিবেদক কথা বলেন কীটতত্ত্ববিদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা সুলতানার সাথে। 

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সবগুলো ধরনই ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দেশে কখনও বৃষ্টি হচ্ছে আবার কখনও গরম পড়ছে। এরকম আবহাওয়া এডিস মশা প্রজননের জন্য উত্তম সময়। আমাদের মশকনিধন কার্যক্রমগুলো তেমন কার্যকর হচ্ছে না। যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি সেসব এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে মশকনিধন কার্যক্রম নেয়া জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচারণা করতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিতে পারলে অবস্থার আরও অবনতি হবে।
 

Link copied!