আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:৪৯ এএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর বিশ্বের কোনো একক দেশের আধিপত্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই খাতের টেকসই ও নিরাপদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী কার্যকর আইন, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার সাংহাইয়ে আয়োজিত ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শি জিনপিং এআই প্রযুক্তির বিকাশে ‘মানুষকেন্দ্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সাংহাইয়ের এই সম্মেলনে এমন সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কম খরচের কারণে চীনা এআই মডেলগুলো বিশ্বজুড়ে দ্রুত ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে এবং মার্কিন শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর কাছাকাছি অবস্থান তৈরি করছে।
তবে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং হ্যাকার ও অপরাধীদের হাতে এই প্রযুক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে শি জিনপিং জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় চীন, যাতে বিশ্বমঞ্চে নতুন কোনো ঐতিহাসিক বৈষম্য তৈরি না হয়। এ লক্ষ্যে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও ব্রিকসভুক্ত দেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এআইয়ের উন্নয়ন কোনো একক দেশের একক প্রদর্শনী হওয়া উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক ঐকতান। এআইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অযথা বিস্তৃত করা বা নিজের সুরক্ষার জন্য অন্য দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলার মানসিকতার যৌথ বিরোধিতা করতে হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে চীন থেকে প্রযুক্তিপণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। গত মে মাসে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ চীনা কোম্পানির বিদেশে থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর কড়াকড়ি বহাল রাখে। ওয়াশিংটন ও মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপের মধ্যে শীর্ষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেই শি জিনপিং মানুষকেন্দ্রিক ও অংশীদারিত্বমূলক প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর পুনরুল্লেখ করলেন।
জেএইচআর