আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:৪৪ এএম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল ভারতের বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ভারতের হাতে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেই আবেদনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি দিক ও বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে এক সংবাদকর্মী প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পাঠিয়েছেন এবং ওই ব্যক্তি বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপ কী?
জবাবে জয়সওয়াল জানান, সুনির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো ব্যক্তির প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে এবং আইন অনুযায়ীই তা বিবেচনা করা হবে। এর আগেও শেখ হাসিনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারত জানিয়েছিল, প্রত্যর্পণ একটি সম্পূর্ণ আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে আইন মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে পলাতক অন্যান্য নেতাদের নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে, যেটিতে ইতোমধ্যে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পরোক্ষভাবে ‘রাজাকারের নাতি-নাতনি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সেই বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে এক দফার গণ-আন্দোলনে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট তাঁর ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
জেএইচআর