ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

অ্যানথ্রাক্সে নতুন আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম

অ্যানথ্রাক্সে নতুন আতঙ্ক
  • গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ১১ জন আক্রান্ত
  • অসুস্থ গরুর মাংস কাটাকাটি থেকে সংক্রমণ
  • পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি, বাকিদের চিকিৎসা চলছে
  • পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অ্যানথ্রাক্স প্রকোপ
  • ১৩ হাজার টিকা মজুদ, আরও টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে
  • আক্রান্ত পশু জবাই বা পরিচর্যায় মানুষে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই খবরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার গ্রামের মাহবুর রহমানের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করেন কয়েকজন গ্রামবাসী। এ কাজে অংশ নেন অন্তত ১১ জন। চারদিন পর বৃহস্পতিবার তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা, ঘা ও পচন দেখা দেয়। 

বিশেষ করে হাত, মুখ, চোখ ও নাকের আশপাশে উপসর্গগুলো প্রকটভাবে দেখা যায়। উপসর্গ দেখা দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মোজা মিয়া, মোজাফফর মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মাহবুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের বর্তমানে গাইবান্ধার রাবেয়া ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকি আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। 

সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গ্রামের অনেকে পশু জবাই কিংবা মাংস কাটাকাটিতে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। 

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অসুস্থ গরু জবাইয়ের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, সুন্দরগঞ্জের একাধিক এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভায় দুটি গরু মারা গেছে। সাহাবাজ এলাকায়ও অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়েছে, যেখানে গবাদিপশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে ১৩ হাজার টিকা মজুদ আছে, তবে আরও টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, রোগাক্রান্ত পশুর মাংস খেলে মানুষ আক্রান্ত হবে না, তবে আক্রান্ত পশু পরিচর্যা করলে অ্যানথ্রাক্সে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। 

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, বেলকা ইউনিয়ন থেকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাইবান্ধা ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত পশু জবাই বা পরিচর্যা করলে সহজেই এ রোগ মানুষে ছড়িয়ে যেতে পারে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাশের পীরগাছা উপজেলায় গরু ও ছাগলের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ ছিল। সেখান থেকে এর প্রভাব সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তিস্তা ও ঘাঘট নদীবেষ্টিত বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ, তারাপুর, বেলকা এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেছেন, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত কোনো গরু বা ছাগল জবাই করা যাবে না। কারণ আক্রান্ত পশু জবাই বা মাংস কাটাকাটির সময় সরাসরি সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রাক্স একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত পশুর দেহে ফোসকা ও ঘা দেখা দিলে সেটি আলাদা রাখতে হবে এবং দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে জানাতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় টিকা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

Link copied!