ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
ডিজিটাল থেকে স্মার্ট চুয়াডাঙ্গা

সুশাসন ও নাগরিক সেবার নতুন দিগন্ত, নেতৃত্বে ডিসি কামাল হোসেন

তানজিদ সরওয়ার 

তানজিদ সরওয়ার 

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

সুশাসন ও নাগরিক সেবার নতুন দিগন্ত, নেতৃত্বে ডিসি কামাল হোসেন

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন এখন এক অনন্য উচ্চতায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন শেষে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে মহৎ লক্ষ্য রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে, সেই লক্ষ্য অর্জনে চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। 

২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তার যোগদানের পর থেকেই সীমান্তঘেঁষা এ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে আমূল ও ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশাসনিক সাফল্যের মূলে রয়েছে তার পারিবারিক শিক্ষা এবং দেশপ্রেমের সুগভীর উত্তরাধিকার। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার পিতা হারুন অর রশিদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দীর্ঘ ২১ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে দেবিদ্বার থানার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কামাল হোসেনের শৈশব থেকেই জনসেবা ও সততার দীক্ষা গড়ে উঠেছে। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে তিনি নিজের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। তার এ বর্ণাঢ্য পটভূমি এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা আজ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনকে এক নতুন গতিশীলতা দান করেছে। সম্পূর্ণ নতুন ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি এ জেলার উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশাসনিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। তার মতে, স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে, যখন রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ তাদের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো কোনো ভোগান্তি ছাড়াই লাভ করবে। 

তিনি বিশ্বাস করেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হলো স্বাধীনতার বীর শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান। এ আদর্শকে সামনে রেখে তিনি তথ্যপ্রযুক্তিকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য বাতায়ন বা চুয়াডাঙ্গা পোর্টাল এখন কেবল একটি ওয়েবসাইট নয়, বরং এটি জেলার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক ডিজিটাল রক্ষাকবচ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর চুয়াডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্থিতিশীল। মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে সামনে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন এখন এক নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তিনি পুলিশ, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলেছেন। 

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তার নির্দেশে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তার এ বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা গড়তে তিনটি বিশেষ দিককে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলার কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোন তৈরির পরিকল্পনা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন। 

বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাতায়নটি এমনভাবে আধুনিকায়ন করা হয়েছে যাতে একজন নাগরিক পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কয়েক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। ই-সার্ভিস ও ফরম ডাউনলোড সুবিধার মাধ্যমে সরকারি সব প্রয়োজনীয় ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সব বিভাগ ও দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান নিয়মিত হালনাগাদ করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

নাগরিকরা সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ বা পরামর্শ পাঠাতে পারছেন। লাইসেন্স প্রাপ্তির নিয়মাবলি সহজবোধ্য করা হয়েছে এবং তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারগণ ভূমি মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি নিয়মিত গণশুনানি করছেন এবং দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে কঠোর তদারকি করছেন। তার এ প্রশাসনিক দৃঢ়তা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি জনগণের সাথে প্রশাসনের সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। 

২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া মোহাম্মদ কামাল হোসেনের এ প্রশাসনিক যাত্রা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য এক নতুন আশা ও ভরসার প্রতীক। একজন দক্ষ বিসিএস ক্যাডার হিসেবে তাঁর মেধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তার নৈতিক দৃঢ়তা চুয়াডাঙ্গাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলায় রূপান্তর করছে। মোহাম্মদ কামাল হোসেনের এ সুযোগ্য নেতৃত্ব ও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা বজায় থাকলে চুয়াডাঙ্গা জেলা অচিরেই সারা দেশের মধ্যে সুশাসনে একটি মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

এএন

Link copied!