ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজধানী ত্যাগ করছেন লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

রাজধানী ত্যাগ করছেন লাখো মানুষ

বাংলাদেশে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ছুটি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো থেকে গ্রামীণ ও জেলা পর্যায়ের পথে মানুষ ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

রাজধানী ত্যাগের দৃশ্যপট : সকাল থেকেই ঢাকার সড়ক ও রেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাস স্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ছুটির যাত্রায় রওনা হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পরিবারগুলো। রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যা এইবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা যায়, বড় বোঝাই করা লঞ্চ ও ইঞ্জিনে মানুষদের ভিড়। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যাত্রীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করছেন।

বাসটার্মিনালে যাত্রীদের ভোগান্তি : রাজধানীর মহাখালী বাসটার্মিনাল শুক্রবার-রোববার ভ্রমণ মৌসুমে যাত্রীদের চাপের কারণে ইতিমধ্যেই সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এসি বাসের সীমিত সংখ্যা এবং অস্বাভাবিকভাবে বেশি চাহিদার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনাইটেড এসি পরিবহনের কাউন্টারে যাত্রীরা চার ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করছেন, তবুও টিকিট পাচ্ছেন না। একই সময়ে নন-এসি বাসের কাউন্টারগুলোতে তুলনামূলকভাবে চাপ কম। সহজে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, ফলে যাত্রীরা নন-এসি বাসের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এসি বাসের সংখ্যা সীমিত থাকার কারণে কাঙ্ক্ষিত রুটে ভোগান্তি বাড়ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা ও অনিশ্চয়তার কারণে মানসিক ও শারীরিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ মৃধা জানান, ‘গত রাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত যাত্রী চাপ বেশি ছিল। বর্তমানে জামালপুর ও শেরপুর রুটেগাড়ি থাকলেও যাত্রী সংখ্যা কম। কিন্তু ময়মনসিংহ রুটে এসি বাসের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সমস্যা অব্যাহত।’

ময়মনসিংহগামী যাত্রী মোহাম্মদ তানজিম জানিয়েছেন, ‘আমি সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনও টিকিট পাইনি। কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, সকালে বেশিরভাগ গাড়ি যাত্রী নিয়ে চলে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। গাড়িগুলো ফিরে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’ সরেজমিন ও যাত্রীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভ্রমণ মৌসুমের প্রভাবে ঢাকা থেকে প্রান্তিক জেলা ও মহানগরের বাইরে রুটে যাত্রী চাপ প্রতিদিন বেড়ে যাচ্ছে। মহাখালী বাসটার্মিনাল, গাবতলী ও শ্যামলী এলাকায় বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সর্বাধিক চাপ লক্ষ্য করা যায়।

ঈদযাত্রা শুরু কমলাপুর থেকে : পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ঈদের ছুটি। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করছেন। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে পরিবারের সঙ্গে ঘরমুখো মানুষ ভিড় করছেন। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে আসা যাত্রীরা স্টেশনের প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট যাচাই করাচ্ছেন। যথাযথ ব্যবস্থার কারণে ঢল নামলেও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল ৬টা থেকে ইতোমধ্যে ২৪টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছাড়েছে, যার মধ্যে ৫টি লোকাল ট্রেন। সারাদিনে মোট ৬০টি ট্রেন ছাড়বে, যার মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন। দিনের শেষ কার্যক্রম রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামগামী একটি লোকাল ট্রেন ছাড়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্টেশনের প্রবেশপথে কিউ সিস্টেম চালু করা হয়েছে এবং টিকিট প্রদর্শনের মাধ্যমে যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), জিআরপি পুলিশের সদস্যরা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে স্কাউট ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দল যাত্রীদের সহায়তায় কাজ করছে।

ঈদ যাত্রার চাপ সামাল দিতে ট্রেনের নিয়মিত সেবা ছাড়াও তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন আরও দুটি বিশেষ ট্রেন চলবে। এর মধ্যে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি জোড়া ট্রেন ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করবে। বিশেষ ট্রেনের চালু হওয়ায় চাপ কিছুটা কমেছে বলে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন।

কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদযাত্রায় অংশ নেয়া যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। রাজশাহীগামী যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগে ট্রেন দেরিতে ছাড়ত, যা অনেক ভোগান্তি সৃষ্টি করত। এবার নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছাড়ছে, তাই অনেক স্বস্তি লাগছে।’ চট্টগ্রামগামী যাত্রী নাসরিন আক্তার জানান, ‘স্টেশনে ভিড় অনেক হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। টিকিট ছাড়া কাউকে ঢুকতে না দেওয়াটা একটি ভালো উদ্যোগ।’ ময়মনসিংহগামী সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশেষ ট্রেন চালু করায় চাপ কিছুটা কমেছে। আশা করছি, আরামেই বাড়ি পৌঁছাতে পারবো।

ছুটির সময়সূচি : প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে। এবারের সরকারি ছুটি মোট সাত দিন। পূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সে অনুযায়ী, পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে শবে কদরের একদিনের ছুটি এবং ১৮ মার্চের জন্য অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে এবার ঈদের মোট ছুটি দাঁড়াল সাত দিন। অর্থাৎ ১৭ মার্চ শবে কদর, ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি, ১৯-২০ মার্চ ঈদের আগে ছুটি এবং ২১-২৩ মার্চ ঈদ ও পরবর্তী দুই দিনের ছুটি মিলিয়ে সাত দিন।

প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ঈদের আগে ১৭ ও ১৮ মার্চ দুই দিনের ছুটি থাকার কারণে মানুষ আগে থেকেই বাড়ি রওনা দিচ্ছে। আজকের দিনটি বেশি মানুষ রাজধানী ছাড়তে বেরিয়েছেন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় তীব্র।’

সর্বোপরি, ঈদুল ফিতরের সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় দেশের রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে মানুষের ঢল শুরু হয়েছে। রাজধানী ছেড়ে মানুষ বাড়ি ফিরছেন, পরিবহন ব্যবস্থা চাপের মুখে রয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং সুষ্ঠু ছুটি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

যানজটহীন সড়ক পথ,  লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীর উপচেপড়া ভিড় : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির শুরুতেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন লাখো মানুষ। বছরের অন্যতম বৃহৎ এই ভ্রমণযজ্ঞে সড়ক, রেল ও নৌ- তিন পথেই দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অতীতের তুলনায় এবার সড়কপথে বড় ধরনের যানজট না থাকায় যাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে খুব ভোরেই কাউন্টারে উপস্থিত হন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে, ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ভোগান্তি তুলনামূলক কম। বিশেষ করে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের চাপ থাকলেও বিশৃঙ্খলা তেমন চোখে পড়েনি।

যাত্রীরা জানান, সময়মতো বাস ছাড়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে ভাড়া নিয়ে অভিযোগ থেমে নেই। অনেক যাত্রীর দাবি, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে কিছু কিছু রুটে।

অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কিছু নেয়া হচ্ছে না। বরং যাত্রীদের সুবিধার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া কম নেয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। এছাড়া মহাসড়কে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তারা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, এবার সড়কপথে বড় ধরনের যানজট না থাকায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কম। ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে দীর্ঘ পথের যাত্রীরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় ভোর থেকেই মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য হাজারো মানুষ পরিবারসহ ঘাটে ভিড় করেন। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে লঞ্চে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ছিল ব্যস্ততা, তবে সেই সঙ্গে ছিল ঈদের আনন্দঘন পরিবেশ। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চ নির্ধারিত সময় মেনেই ছেড়ে যাচ্ছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে।

যাত্রীদের বড় একটি অংশ জানান, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবারের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলনামূলক কম। নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রা করতে পারায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঘাট এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপদে লঞ্চে ওঠা-নামা, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে রেলপথেও ঈদযাত্রার চাপ স্পষ্ট। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা দ্রুত নিজেদের আসন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীচাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেককে দাঁড়িয়ে কিংবা গাদাগাদি করে যাত্রা করতে দেখা গেছে। এমনকি কিছু যাত্রীকে ট্রেনের ছাদেও উঠতে দেখা গেছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগজনক। তবে পূর্বাঞ্চলগামী ট্রেনগুলো তুলনামূলক ফাঁকা ছিল বলে জানা গেছে। এতে করে ওই রুটের যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পেরেছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময় মেনে চলাচল করছে। উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া অন্য ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেছে। শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীরা বলেন, সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় তাদের ভোগান্তি কমেছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে কিছুটা কষ্ট হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রায় আগাম প্রস্তুতি, যানবাহনের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো রয়েছে। যদিও যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি, তবুও ব্যবস্থাপনার কারণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে চাপ ও ভিড়ের মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে। সড়কে যানজটের অভাব, নৌপথে নিরাপত্তা এবং রেলপথে সময়ানুবর্তিতা- এই তিনটি বিষয় যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দেয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই এই চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। ঘরমুখো মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো্তদীর্ঘ ভোগান্তি ছাড়াই প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানোর আশা। আর সেই আশাকে কেন্দ্র করেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন লাখো মানুষ, সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন ঈদের আনন্দ ও ভালোবাসা।

Link copied!